আর্জেন্টিনা হেসেখেলেই জিতল, ব্রাজিলের ঘাম ছুটে গেল

সাউথ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। পরে বলিভিয়ার বিপক্ষে জিতলেও কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে ড্র করে বসে আলবিসেলেস্তেরা। তাতে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা হয়ে ফাইনাল স্টেজের টিকিট পায় দিয়েগো প্লাসেন্তের শিষ্যরা।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে পাত্তা না পেলেও বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে পরবর্তী ধাপ নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাই কলম্বিয়ার কাছে হারলেও খুব বেশি সমস্যা হয়নি সেলেসাওদের।

গ্রুপ পর্বের পর বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে ফাইনাল স্টেজে নিজ নিজ ম্যাচে নেমেছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। নিজেদের ম্যাচে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে চিলিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতেছে ১-০ ব্যবধানে।

তবে জিতেও আক্ষেপ আছে সেলেসাওদের। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার আর্থুর দিয়াসকে। এক জন কম খেলোয়াড় নিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারাই হয়তো বড় স্বস্তি রামোন মেনেজেসের দলের। দিনের অন্য ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া।

৬ দলের ফাইনাল স্টেজে এটি ছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। এ পর্বে প্রতিটি দল একে অন্যের সঙ্গে লড়বে। এরপর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ৪ দল সরাসরি জায়গা করে পাবে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চিলিতে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে। স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে চিলি। আর চিলি লাতিন চ্যাম্পিয়নশিপের এই ফাইনাল স্টেজের সেরা চারে থাকলে পঞ্চম দলও যাবে বিশ্বকাপে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা আজ জিতে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেল আর কী!

স্তাদিও অলিম্পিকো দে লা ইউসিভিতে আজ শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে ক্লদিও এচেভেরির কোনাকুনি ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় হাত দিয়ে বারপোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন চিলি গোলকিপার ইগনাসিও সায়েস।

শুরুতে গোলবঞ্চিত হলেও টানা আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুতই। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ড্রিবল করে বক্সের দিকে এগোতে থাকেন এচেভেরি। তবে চিলি ডিফেন্ডার ইভান রোমানে আটকে যান ম্যান সিটির এ তরুণ মিডফিল্ডার। সেখান থেকে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্সের ভেতর পজিশন গড়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে জালে বল জড়ান ইয়ান সুবিআব্রে।

এর ৭ মিনিট পর আবারও গোল উদযাপন করে আর্জেন্টিনা। এবার নিজেদের অর্ধ থেকে এচেভেরি লম্বা করে বাড়ান আগুস্তিন রুবের্তোর উদ্দেশে। চিলি ডিফেন্ডার নিকোলাস সুয়ারেস গায়ে আঠার মতো লেগে থাকলেও রুবের্তো বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এমনকি বল নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে একবার পড়ে গেলেও নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়িয়ে আবারও দৌড় শুরু করেন রুবের্তো। এরপর সুয়ারেসকে ড্রিবল করে বক্সের ভেতর ঢুকে জোরালো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ১৯ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার।

২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে আকাশি-সাদারা। তবে ডিফেন্ডার তোবিয়াস রামিরেসের ভুলে স্রোতের বিপরীতে একটি গোল হজম করে আর্জেন্টিনা। গোলকিপার হেরেমিয়াস মার্তিনেস পাস দিয়েছিলেন রামিরেসকে। তবে সেটা নিজের পায়ে রাখতে পারেননি রামিরেস। আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের ভেতর পাস দেন নিকোলাস সারকামো। ফাঁকায় বল পেয়ে ব্যবধান কমাতে (২-১) তেমন অসুবিধা হয়নি হয়ান রোসেলের।

আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ জয় পেলেও ব্রাজিলকে শেষ হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে ঘাম ঝরাতে হয়েছে বেশ। উরুগুয়ের সঙ্গে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনো দলই। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৭ মিনিটে আবার দিয়াসের লাল কার্ডে বিপদ বাড়ে ব্রাজিলের।

তবে ১০ জনের দল নিয়েও হাল ছাড়েনি ব্রাজিল। ৭৪ মিনিটে গাব্রিয়েল মোসকার্দোর পাসে ব্রাজিলের জয়সূচক গোলটি  করেন পেদ্রো। অবশ্য এ গোলে উরুগুয়ে গোলকিপার কেভিন মার্তিনেসের অবদানও কম ছিল না। পেদ্রোর দুর্বল শট মার্তিনেসে কীভাবে ঠেকাতে পারলেন না, সেটার ব্যাখ্যা হয়তো উরুগুয়ের কাছেও নেই!