বাংলাদেশের ফুটবলে এখন সময়টা হামজা চৌধুরীকে নিয়ে বুঁদ থাকার। তা বুঁদ হয়েও আছে পুরো দেশ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল লেস্টার সিটি থেকে বর্তমানে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বিভাগ চ্যাম্পিয়নশিপের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজাকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ারই কথা সবার।
সিলেটে নিজ বাড়িতে একটা দিন কাটিয়ে গতকাল ঢাকায় জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন হামজা, আজ সংবাদ সম্মেলনেও এসেছেন। সেখানে পুরোটা সময়ে হাসিমুখে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাওয়া হামজার কণ্ঠে জাতীয় দল নিয়ে আশার সুর নিশ্চিতভাবে সঞ্চারিত হয়েছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনেও।
তবে হামজাকে নিয়ে উন্মাদনার মাঝেই গত দুদিনে বাংলাদেশের ফুটবলে বিতর্ক ছড়িয়েছে আরেক প্রবাসী ফুটবলার ফাহামেদুল ইসলামের বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক। ইতালির চতুর্থ বিভাগ সেরি ডি-র দল অলবিয়া কালচোতে খেলা ফাহামেদুলকে সৌদি আরবে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডেকেছিলেন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা, কিন্তু সেখানে এক সপ্তাহ অনুশীলনের পর ফাহামেদুলকে আর চূড়ান্ত দলে রাখেননি কাবরেরা। সৌদি আরব থেকেই ইতালি চলে গেছেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফাহামেদুল।
কিন্তু এ নিয়েই গত দুদিনে উত্তপ্ত বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গন। ফেসবুকে একের পর এক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ভাসছে, বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের সামনে গতকাল জড়ো হয়েছিলেন অনেক সমর্থক। আজ শাহবাগেও চলছে প্রতিবাদ। এর মধ্যে আজ সংবাদ সম্মেলনে ফাহামেদুলকে ঘিরে তৈরি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা।
ফাহামেদুলকে কেন বাদ দেওয়া হলো এবং তাঁর বাদ পড়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতি জাতীয় দলে প্রভাব ফেলবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সোজা ব্যাটেই খেলেছেন কাবরেরা। প্রশ্নটাকে ‘দারুণ প্রশ্ন’ জানিয়ে শুরু উত্তরে বাংলাদেশ কোচ ফাহামেদুলের বাদ পড়ার ব্যাখ্যায় বললেন, ‘ফাহামেদুলকে নিয়ে ব্যাপারটা আমার চোখে পজিটিভ। আমিই ফাহামেদুলকে খুঁজে বের করেছি, বেশ কয়েক মাস ধরে ওকে দেখেছি। ওর ক্লাবের সঙ্গে, ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালকের সঙ্গে অনেক মাস ধরে আলোচনা করেছি। ও এখানে (দলে) আসার আগেই ওকে বেশ ভালোভাবে চিনতাম আমি। এখানে (দলে) আসার পর ও একটা সপ্তাহ জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছে। আমরাও ওকে দেখার, ওকে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পেয়েছি। এবং এরপর যে সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছেছি, আমার সিদ্ধান্ত এটা যে, ওর এখনো আরেকটু সময় লাগবে। এবং এটা তো ইতিবাচক ব্যাপার।’
ফাহামেদুলকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের অংশ জানিয়ে কাবরেরা এরপর বললেন, ‘ও প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়, এখনো তরুণ, মাত্র ১৮ বছর বয়স ওর, আগামী দিনগুলোতে জাতীয় দলে থাকার মতো মান ওর আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে অন্য কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা জাতীয় দলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো এবং ভারতের মতো একটা চ্যালেঞ্জে নামার জন্য আরও বেশি প্রস্তুত। ফাহামেদুলকে নিয়ে তো নেতিবাচকতার কিছু নেই, যদি কিছু থাকে সেটা ইতিবাচক! ফাহামেদুল আমাদের সঙ্গে ছিল, ও জাতীয় দলেরই অংশ, এখন শুধু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরের চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য ও আরও তৈরি হয়ে উঠবে।’