ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের আজ আনন্দের দিন। বহুদিন ধরে কার্লো আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের কোচ বানানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে দলটি। কিন্তু তাঁকে না পাওয়ায় গত বছর দরিফাউ জুনিয়রকে নিয়োগ দিয়েছিল। সে প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ায় ছাঁটাই হয়েছেন দরিফাউ।
এরপর প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোচের নাম ঘোষণা করছিল না সিবিএফ। অবশেষে আজ নেইমারদের কোচ হিসেবে রেয়াল মাদ্রিদের সদ্য সাবেক আনচেলত্তির নামই ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। এবং এতে একটি ইতিহাসও হয়েছে। এই প্রথম কোনো বিদেশির হাতে জাতীয় দল বুঝিয়ে দিচ্ছে ব্রাজিল।
এই ‘প্রথম’ শব্দটায় অনেকেই আবার আপত্তি করতে পারেন। আনচেলত্তির আগে যে ৫৪ জন কোচ (এদের ১৯ জন অন্তর্বর্তীকালীন) নিয়োগ দিয়েছে ব্রাজিল, তাদের সবাই-ই যে ব্রাজিলিয়ান ছিলেন এমন নয়। তাঁর আগেও আরও তিনজন বিদেশি ব্রাজিলের কোচের ভূমিকায় ছিলেন।
তাঁরা তিনজন হলেন উরুগুয়ের রামন প্লাতেরো, পর্তুগালের জর্জে গোমেস দে লিমা (জোরেকা) ও আর্জেন্টিনার ফিলপো নুনিয়েস।
ব্রাজিল জাতীয় দল ১৯১৪ সালে প্রথম কোচ নিয়োগ দেয়, আর ১১ বছরের মাথায় প্রথম বিদেশি কোচ পেয়ে যায়। রামন প্লাতেরো ব্রাজিলের দায়িত্ব ছিলেন মাত্র ১৯ দিনের জন্য। তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে দায়িত্বের ভাগ পেয়েছিলেন ব্রাজিলের জোয়াকিম গিমারেস। তবে ডাগআউটে প্লাতেরোই বসতেন। ১৯২৫ সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপ (বর্তমান কোপা আমেরিকা) শেষ হতেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় তাঁর।
প্লাতেরো তবু প্রায় সপ্তাহ তিনেক দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর পরের বিদেশি, আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে প্রথম ইউরোপিয়ান এক সপ্তাহও টিকতে পারেননি। সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল দুনিয়ায় আবির্ভাব। রেডিওতে ধারাভাষ্য দিয়েছেন, এমনকি রেফারিও হয়েছেন। ১৯৪৩ কোচ হিসেবে অভিষেক মৌসুমেই সাউ পাওলোকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ এনে দিয়েছেন।
তাই ১৯৪৪ সালে রিও দে জেনিরোর কিংবদন্তি কোচ ফ্লাভিও কস্তার সঙ্গে যৌথভাবে তাঁকেও ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১৪ মে শুরু, ১৭ মে শেষ। উরুগুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ৬-১ ও ৪-০ জয়ের পর কস্তাকেই স্থায়ী করেছে ব্রাজিল। আর চার দিনেই শেষ হয়ে যায় ব্রাজিলের প্রথম ইউরোপিয়ান কোচ অধ্যায়।
একমাত্র আর্জেন্টাইন হিসেবে ব্রাজিলের দায়িত্ব পালন করা নুনিয়েসের গল্পটা আরও মজার। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন ভিসেন্তে ফিওলা। এদিকে ১৯৬৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে পালমেইরাস ক্লাবকেই ব্রাজিল দল হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। আর পালমেইরাস কোচের ভূমিকায় থাকা ফিওলা এক দিনের জন্য ব্রাজিলের কোচ বনে গেছেন।
এমনভাবেই সে বছরের ১৬ নভেম্বর করিন্থিয়াসের কোচ অসভালদো ব্রান্দাও ব্রাজিলের কোচ হয়েছিলেন (প্রতিপক্ষ আর্সেনাল)। এবং ২১ নভেম্বর হাঙ্গেরির বিপক্ষে একদিনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছিলেন আইমোর মরেইরা। কারণ, সেদিনই সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে মূল ব্রাজিল নিয়ে নেমেছিলেন ফিওলা!
অর্থাৎ আনচেলত্তির আগে যে তিন বিদেশি দায়িত্ব পেয়েছিলেন, তাঁরা হয় যৌথভাবে দায়িত্ব পেয়েছেন বা অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে ভূমিকায় ছিলেন। এ কারণেই অধিকাংশ বড় মিডিয়া আনচেলত্তিকে ব্রাজিলের প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে।