বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসাতে হামজার লাগল পাঁচ মিনিট

ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম নেমেছিলেন, আজ ঢাকা স্টেডিয়ামের আবার পথচলার শুরু মিলে গেল হামজা চৌধুরীর একটা নতুন শুরুর সঙ্গেও। বাংলাদেশের মাটিতে যে আজই অভিষেক হলো তাঁর! এবং অভিষেক কীভাবে রাঙাতে হয়, তা পাঁচ মিনিটেই বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবলের পোস্টারবয়!

ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে, বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়ে। গোলটা কার? হামজা চৌধুরীর! পঞ্চম মিনিটে ডান দিক থেকে জামাল ভুঁইয়ার কর্নারে দারুণ হেডে গোল করে ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিভর্তি দর্শককে উদ্‌যাপনে ভাসিয়েছেন হামজা।

৫৫ মাস পর সংস্কার শেষে ঢাকা স্টেডিয়ামের নতুন পথচলা, আর হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশের মাটিতে অভিষেকের বাইরে এই ম্যাচে আরেকটা শুরুও হয়েছে – গত মার্চে যাঁকে দলে না নেওয়া নিয়ে ক্ষোভে পথেই নেমে গিয়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী, সেই ইতালিপ্রবাসী ফাহামেদুল ইসলামেরও এই ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয়েছে। কানাডাপ্রবাসী সামিত সোমের অভিষেকের অপেক্ষা একটু বাড়ছে, আজ সকালেই ঢাকায় নামায় এই ম্যাচে তাঁর খেলা হচ্ছে না।

মূলত আগামী ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য একটা প্রস্তুতি ম্যাচই। তাতে প্রথম ৪৫ মিনিটে কেমন খেলেছে বাংলাদেশ? স্কোরলাইনে চোখ রেখে বলতে হয়, বাংলাদেশের নামের পাশে গোলের সংখ্যাটা ৩ বা ৪ হওয়া উচিত ছিল। ৩৬ মিনিটে জামালের গোলমুখী শট ব্লক করেছেন ভুটানের ডিফেন্ডার, তার আগে-পরে রাকিব দুটি শট ঠিকঠাক নিতে পারেননি। ৩০তম মিনিটের দিকে ফাহামেদুল বক্সে শট নেওয়ার জন্য জায়গা করে নিলেও শটটা ব্লক করে দিয়েছেন ভুটানের এক ডিফেন্ডার। পুরো ৪৫ মিনিট বলতে গেলে বাংলাদেশের দাপটই ছিল।

হামজার দাপটও স্পষ্ট হয়েছে প্রথমার্ধের প্রতিটি মিনিটে। জানুয়ারিতে ধারে যাওয়ার পর চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ডে বেশিরভাগ সময়ে রাইটব্যাক পজিশনে খেলা হামজা আজ কিছুক্ষণ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে, ইনভার্টেড রাইটব্যাকের মতোই খেলেছেন। তাঁর উপস্থিতি রাইটব্যাক তাজউদ্দীনকে ওপরে ওঠার লাইসেন্স দিয়েছে বারেবারে। হামজার পাসিং দু-একবার বাদে বাকি সময়ে ছিল দারুণ, আর ট্যাকলিংয়ে তিনি কী –যথাসম্ভব ফাউল না করেও কীভাবে বল কেড়ে নেন তিনি, সেটা ভারতের মতো আজ ভুটানের খেলোয়াড়েরাও বুঝেছে।  

ফাহামেদুল বাঁ পাশের টাচলাইনে থেকে দলের ‘উইডথ’ নিশ্চিত করেছেন। তবে বল পায়ে দু-একটা ঝলক দেখালেও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে যেতে পারেননি সেভাবে। ঢাকার গরমও অবশ্য হামজা-ফাহামেদুলদের জন্য একটা বড় বাধা হওয়ার কথা। তবে অনেকদিন পর বাংলাদেশের একাদশে জায়গা পাওয়া জামাল ভুঁইয়া পাসিংয়ের ক্ষমতা দেখিয়েছেন।

তবে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা যে এখনো কৌশল নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেনি, সেটা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে তা গোছানো না গেলে সেটা বড় দুশ্চিন্তা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। বারেবারে দুই ডিফেন্ডারের ওপরে চারজনের রেখা রেখে পজেশনাল ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ, কিন্তু হামজা রাইটব্যাকের দিকে সরে আসায় শুধু তাঁর কাছেই বারবার বল গেছে। মাঝমাঠে সোহেল রানা, কাজেম শাহদের মুভমেন্টের কমতি ছিল, যা বারেবারে স্পষ্ট হয়েছে পাসিং অপশনের খোঁজে কখনো হাত-পা ছোঁড়া, কখনো চিৎকার করা দুই ডিফেন্ডার তপু বর্মন ও তারিক কাজীর শরীরী ভাষায়।