গুরুত্বের বিচারে এই ম্যাচটাকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই। মূলত ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ভুটানের বিপক্ষে এই ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য ছিল প্রস্তুতির।
তবে এই ম্যাচের সঙ্গেই জড়িয়ে গেছে কত উপলক্ষ! হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশের মাটিতে অভিষেক, একই দিনে বাংলাদেশের জার্সি প্রথমবারের মতো গায়ে উঠল ফাহামেদুল ইসলামেরও। এই দুই অভিষেক আবার মিলে গেল প্রায় সাড়ে চার বছরের সংস্কারে নতুন সাজ পাওয়া ঢাকা স্টেডিয়ামের নতুন পথচলার সঙ্গে।
এত দারুণ সব উপলক্ষে বাংলাদেশকে কী দারুণভাবেই না মাতিয়ে তুললেন হামজা! অনেকদিন পর একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়া অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া দারুণ খেলেছেন, ফাহামেদুল উইংয়ে গতি আর ট্রিকসের কিছু ঝলক দেখিয়েছেন, দ্বিতীয়ার্ধে চোখধাঁধানো গোল করেছেন সোহেল রানা…তবে এই ম্যাচে সব নজর তো হামজার ওপরই ছিল! ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জামালের কর্নারে দারুণ হেডে পুরো বাংলাদেশকে আনন্দে মাতিয়েছেন হামজা!
হামজায় মুগ্ধ হওয়ার দিনে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়ে সিঙ্গাপুর ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। অবশ্য একেবারে শেষ দিকে, যোগ করা সময়ে মিতুল মারমা দারুণ একটা সেইভ না করলে বাংলাদেশের আর জাল অক্ষত রাখা হতো না। পুরো ম্যাচে ভুটানের বলার মতো শট ওই একটিই – বাংলাদেশের দাপট বোঝাতে হয়তো এতটুকুই যথেষ্ট।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের খুব বেশি পরিশ্রম না করানোর লক্ষ্যেই হয়তো, প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সেরা দুই খেলোয়াড় হামজা আর জামালকে দ্বিতীয়ার্ধে আর নামাননি বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। মিনিট ষাটেকের দিকে ফাহামেদুলকেও তুলে নেন। এরপর ম্যাচে অবশ্য ফুটবলটা আর তেমন আকর্ষণীয় হয়নি। এর মধ্যেও যা দু-একটি দারুণ সুযোগ তা বাংলাদেশই পেয়েছিল।
অবশ্য তার আগের ৬০ মিনিটে – আরও নির্দিষ্ট করে বললে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ যে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা বাড়ানোর মতো দারুণ অনেক মুহূর্তই উপহার দিয়েছে! ফিনিশিংটা ভালো হলে, শেষ পাসটা ঠিকঠাক হলে, ভুটানের ডিফেন্ডাররা পুরো শরীর বলের সামনে নিয়ে কয়েকবার শট না ঠেকালে বাংলাদেশের নামের পাশে গোলের সংখ্যায় ৪ কিংবা ৫-ও থাকতে পারত!
শুরুটা তো তেমনই ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিল! ক্লাব ক্যারিয়ারে এত বছরে মাত্র দুটি গোল হামজার – গোল করা তো এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের সর্বাধিকার পাওয়া দায়িত্বও নয় – সেই হামজাই কিনা বাংলাদেশের জার্সিতে দ্বিতীয় ম্যাচ আর বাংলাদেশের মাটিতে তাঁর প্রথম ম্যাচই রাঙিয়ে দিলেন গোল করে! ডানদিক থেকে জামালের ক্রসটা হলো দারুণ, ভুটানের ডিফেন্ডাররা কিছু বোঝার আগেই পেছন থেকে এসে দারুণ লাফিয়ে বলটা জালে ঢুকিয়ে দিলেন হামজা!
এরপর ফাহামেদুল দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিলেন, ৩২ মিনিটে বাংলাদেশের দারুণ আক্রমণের পর তাঁর শট লেগেছে ভুটানের ডিফেন্ডারের পায়ে। জামাল তার মিনিট দুয়েক পরই দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, তাঁর শটও ফিরল ভুটানের রক্ষণে। রাকিব ৩৭ মিনিটে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। এর বাইরে বেশ কয়েকবার কখনো শট নিতে দেরি, কখনো শেষ পাসটার গতি বা সময় নিখুঁত না হওয়া মিলিয়ে বাংলাদেশের দারুণ অনেক আক্রমণ আর পূর্ণতা পায়নি।
তবে প্রথমার্ধে হামজা-জামাল-ফাহামেদুল-কাজেমদের নিয়েও মাঝে মাঝে বাংলাদেশের মাঝমাঠে সমন্বয়ের অভাব, মুভমেন্টের তীব্র অভাব চোখে পড়েছে। সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে যা নিয়ে কাজ করতে হবে কাবরেরাকে। অবশ্য আজই ঢাকায় নেমে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে ম্যাচটি দেখা কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার সামিত সোম এ জায়গায় একটা অস্ত্র হতে পারেন কাবরেরার জন্য।
দ্বিতীয়ার্ধে হামজা-জামাল দুজনকেই আর নামাননি বাংলাদেশ কোচ। তবে বাংলাদেশের গোল তাতে থেমে থাকেনি। ৫০ মিনিটেই বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের চোখধাঁধানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন সোহেল রানা।
শেষ পর্যন্ত ওই দুই গোলই হয়ে থাকল বাংলাদেশ আর ভুটানের ব্যবধান।