রেয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে প্রথম বড় পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি শাবি আলোনসো। গতকাল রাতে ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পিএসজির কাছে ৪-০ গোলে উড়ে গেছে মাদ্রিদ। সে হারের পর আলোনসো, এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেবেন তিনি।
বায়ের লেভারকুসেনকে নিয়ে ২০২৪ সালে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটানো আলোনসো এই জুনেই পেয়েছেন মাদ্রিদের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্য কোনো মৌসুম হলে জুলাইয়ের মাঝপথে গিয়ে দল নিয়ে কাজ শুরু হতো। কিন্তু ক্লাব বিশ্বকাপের কারণে জুনেই ক্লান্ত এক দল নিয়ে নেমে পড়তে হয়েছে তাঁকে।
মৌসুমের শেষে নতুন কোনো কোচের পক্ষে কোনো দল নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন। তবু প্রথম ম্যাচের পর যত সময় গেছে, আলোনসোর ফিলোসফির সঙ্গে মানিয়ে নিতে দেখা গেছে মাদ্রিদকে। গতকালই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল তাঁর। এবং ম্যাচের আগেই নিজের সে ফিলোসফি থেকে সরতে হয়েছে তাঁকে।
প্রথম ম্যাচের পরই দলকে পাঁচ রক্ষণে খেলিয়েছেন আলোনসো। দুই ফুলব্যাক ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আরনল্ড ও ফ্রান গার্সিয়া উইংব্যাক হিসেবে নেমেছেন। দুই সেন্টারব্যাক ডিন হাউসেন ও রুডিগার/আসেনসিওর মাঝে ঢুকে পড়তেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি।
রক্ষণ থেকে বল ডিস্ট্রিবিউশনের কাজটা ট্রেন্ট, হাউসেন ও চুয়ামেনিই করতেন।
কিন্তু আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছেন হাউসেন। সে জায়গা আসেনসিওই পেতেন। কিন্তু ম্যাচের আগে ট্রেন্ট আরনল্ডও চোটের কারণে ছিটকে গেছেন।
তাতে নিজের প্রিয় পাঁচজনের রক্ষণ থেকে ট্র্যাডিশনাল চারজনের রক্ষণে ফিরে গেছেন আলোনসো। এবং গত মৌসুমে আসেনসিও-রুডিগারের রক্ষণ যে ভুল করত, গতকাল সে ভুলগুলো ফিরিয়ে এনেছেন ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই।
মাঠের ওপরের দিকেও বদল এনেছিলেন আলোনসো। গত চার ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে গনসালো গার্সিয়া নেমেছিলেন। বাঁ প্রান্তে ভিনিসিয়ুস, আর বক্সে থাকতেন গার্সিয়া। মাঠের ডানদিকে মূলত জুড বেলিংহাম যেতেন, তাঁর সঙ্গে জায়গা বদলাতেন ফেদে ভালভার্দে।
গতকাল ভালভার্দেকে রক্ষণে নেমে যেতে হয়েছে আরনল্ডের অনুপস্থিতিতে। কিলিয়ান এমবাপ্পে পুরো ফিট থাকায় তাঁকে কাল নামিয়েছেন আলোনসো। ক্লাব বিশ্বকাপে ৪ গোল করা গার্সিয়াকেও বসানো অসম্ভব। ওদিকে ভিনিসিয়ুসকেও বসিয়ে রাখা যায় না। তাই এমবাপ্পে-গার্সিয়া-এমবাপ্পের আক্রমণভাগ ব্যবহার করেছেন আলোনসো।
কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ভিনিসিয়ুসকে ডানে খেলাতে হয়েছে। নিজের প্রিয় বাঁ প্রান্ত থেকে সরে রদ্রিগো ডানদিকে মানিয়ে নিতে পারলেও ভিনিসিয়ুস কখনোই একাজটি পারেননি। জিনেদিন জিদানের অধীনেও এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছিল। গতকালও সেটা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁকে বাঁ প্রান্তে ফিরিয়ে আনেন আলোনসো। ততক্ষণে পিএসজি ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।
এরপরও যে এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস জুটি কিছু করতে পেরেছেন এমন না। ম্যাচের ভাগ্য বদলানো সম্ভব না দেখে আলোনসো বদলি নামানোর ক্ষেত্রে মদরিচ ও ভাসকেসকে বিদায় জানানোকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। চোট থেকে ফেরা দুই ডিফেন্ডার মিলিতাও এবং কারভাহালকেও নামিয়েছেন। আক্রমণে শুধু ব্রাহিম দিয়াসকে একটু গা-গরমের সুযোগ দিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে আলোনসো বলেছেন, ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যে আসেনসিও এবং রুডিগারের দুটি শিশুতোষ ভুলের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি, ‘শুরুতেই ২-০ তে পিছিয়ে পড়া শক্ত ধাক্কা। আমরা জানতাম কাজটা খুব কঠিন।’
ম্যাচ শেষে পিএসজির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছেন আলোনসো, ‘এই মুহূর্তে মোটেও ভালো লাগছে না কিছু। কিন্তু আজকের এই ম্যাচ থেকে আমরা শেখার চেষ্টা করব। ওরা এমন এক দল যারা দুই বছর সময় পেয়েছে গড়ে ওঠার জন্য। আমরা মাত্রই শুরু করলাম, তাই সময় লাগবে।’
আলোনসো মনে করিয়ে দিয়েছেন, আজকের ম্যাচটি নতুন মৌসুমের অংশ নয়। বরং এই ম্যাচটি গত মৌসুমের শেষ। দলকে নিজের মতো করে গড়ে তুলতে একটি পূর্ণ প্রাক-মৌসুম দরকার তাঁর, ‘এখন আমাদের যা দরকার তা হলো সত্যিকারের একটা ছুটি। এটা নতুন বছরের শুরু না, এই মৌসুমের শেষ। মাত্র তিন সপ্তাহের পর, আমার ধারণা এই সময়ে অনেক ইতিবাচক কিছুই নেওয়ার আছে। আজ ইতিবাচক কিছু নেওয়ার নেই, আজকের ম্যাচ থেকে আমরা নেব শিক্ষা।’