ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষে গতকাল কী একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিই না তৈরি হয়েছিল! শিরোপামঞ্চে চেলসি খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। কিন্তু ট্রফি তুলে দেওয়ার পর খেলোয়াড়েরা যখন ট্রফি হাতে লাফালাফি করার কথা, ট্রাম্প তখনো মঞ্চেই দাঁড়িয়ে থাকলেন!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে হাস্যরস তো চলছেই, চেলসির খেলোয়াড়েরাও সংবাদমাধ্যমে জানালেন, তাঁরা হতভম্ব হয়ে গেছেন ট্রাম্পের এমন কাণ্ডে।
ঘটনাটা দেখে ২০০৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কথা মনে পড়ে যাওয়ার কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের। সেবার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া দল যখন শিরোপামঞ্চে, তাদের হাতে ট্রফি তুলে দিতে গিয়েছিলেন সে সময়ের বিসিসিআই সভাপতি ও ভারতীয় মন্ত্রী শারদ পাওয়ার। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের হাতে ট্রফি তুলে দিয়েও পাওয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়েই ছিলেন। কিন্তু পন্টিংসহ অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যরা অনেকটা ধাক্কা দিয়ে পাওয়ারকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিয়ে পরে মেতে ওঠেন শিরোপা-উৎসবে।
ভারতে অনুষ্ঠিত সে টুর্নামেন্টের ফাইনালে বিসিসিআই সভাপতি ও ভারতীয় এক মন্ত্রীর এমন অপমান স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি ভারতের মানুষ। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের সমালোচনা হয়েছিল অনেক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পিএসজিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ৩২ দল নিয়ে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা চেলসির কেউ গতকাল ট্রাম্পের সঙ্গে আর তেমন কিছু করেননি। ট্রাম্পের হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার পর চেলসি অধিনায়ক রিস জেমস যখন দেখেন ট্রাম্প মঞ্চ ছাড়ছেন না, ট্রাম্পকে কিছু একটা জিজ্ঞেস করেছিলেন জেমস। দেখে মনে হলো, ট্রাম্প মঞ্চেই থাকবেন কি না সেটা নিশ্চিত হতে চেয়েছেন জেমস। ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাত নাড়িয়ে ‘হ্যাঁ’ বলেন। জেমস ও চেলসির খেলোয়াড়েরা তখন ট্রাম্পকে পাশে রেখেই ট্রফি নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। ট্রাম্প আর কী করবেন, দাঁড়িয় দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছিলেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো – যিনি ট্রাম্প চেলসি অধিনায়ক জেমসের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পরপরই মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার সময়ে একবার ট্রাম্পকে মঞ্চ ছাড়ার ব্যাপারে বলেছিলেন – এসে ট্রাম্পের সঙ্গে একমুহূর্ত মঞ্চে উদ্যাপনের ভঙ্গি করে পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যান মঞ্চ থেকে।
এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেমস বললেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছিল যে তিনি (ট্রাম্প) ট্রফি তুলে দেবেন, এরপর মঞ্চ ছেড়ে যাবেন। আমি ভেবেছিলাম তিনি মঞ্চ ছাড়তে যাচ্ছেন, কিন্তু তিনি থাকতে চাইলেন। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানালেন, দলকে বললেন ট্রফি নিয়ে উদ্যাপন করতে আর আমাদের মুহূর্তটা উপভোগ করতে বললেন।’
ওই মুহূর্তের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প মঞ্চ থেকে নামছেন না দেখে ম্যাচে জোড়া গোল করা চেলসি তারকা কোল পালমার সামনে দাঁড়ানো জেমসের উদ্দেশে প্রশ্ন করছেন, ‘তিনি এখানেই থাকছেন?’ সংবাদ সম্মেলনে পরে পালমার বললেন, ‘জানতাম তিনি মঞ্চে থাকবেন, কিন্তু আমরা ট্রফি নিয়ে উদ্যাপনের সময়ও তিনি থেকে যাবেন সেটা জানতাম না। হ্যাঁ, আমি বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে।’
এদিকে ম্যাচের পর এক টিভিতে সাক্ষাৎকারে তাঁর ‘সময়টা দারুণ কেটেছে’ জানিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘জিয়ান্নি (ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো) আমার বন্ধু। লিগটা আর সকার – বা সবাই যেটাকে ফুটবল বলে, আমার মনে হয় আমরা সকারই বলি – সেটা নিয়ে ও দারুণ কাজ করছে। তবে (আজ ম্যাচটা) দেখতে ভালোই লেগেছে। আমরা তো আজ একটা অঘটনই দেখলাম, তাই না?’
যখন তাঁকে বলা হলো যে তিনি চাইলেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খেলাটাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল নামে অভিহিত করার নিয়ম চালু করতে পারেন, জবাবে হেসে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট বললেন, ‘সেটা সম্ভবত আমরা করতেই পারি। আমার মনে হয় এটা আমি করতে পারব।’