‘ফিলিস্তিনি পেলে’ কীভাবে মরলেন, উয়েফাকে প্রশ্ন সালাহর

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের সাবেক ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবায়েদ। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত বুধবার দক্ষিণ গাজায় অন্যান্য বেসামরিকদের সঙ্গে ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় ছিলেন ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ হিসেবে খ্যাত ওবায়েদ। সেখানে ইসরায়েল হামলা চালালে প্রাণ হারান ৪১ বছর বয়সী সাবেক এ ফুটবলার।   

ওবায়েদের মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী সমর্থক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা শোক প্রকাশ করেছে। সে তালিকায় ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও। কিন্তু উয়েফার শোক প্রকাশের ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন লিভারপুল তারকা মোহামেদ সালাহ। উয়েফার কাছে মিশরীয় ফরোয়ার্ড জানতে চেয়েছেন, কীভাবে ও কেন মারা গেলেন ওবায়েদ।

উয়েফার যে বিবৃতিতে নিয়ে সালাহর ক্ষোভ, সেখানে ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা উল্লেখ করেছে, ‘তিনি (ওবায়েদ) এমন এক ফুটবল প্রতিভা, যিনি অন্ধকার সময়েও অসংখ্য শিশুকে আশা দেখিয়েছিলেন।’

এমন বিবৃতিতেই ক্ষেপেছেন সালাহ। উয়েফার দিকে আঙুল তুলে লিভারপুল তারকা বলেছেন, ‘আমাদের বলতে পারেন, কীভাবে, কোথায় এবং কেন তিনি মারা গেছেন?’

সালাহর এমন মন্তব্য যে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে করা, সেটা না বললেও চলে। কিন্তু উয়েফার বিবৃতিতে নিন্দা জানানো তো দূরের কথা, ইসরায়েলি হামলার কথাই উল্লেখ করা হয়নি।

শুধু এবারই নয়, এর আগেও গাজা ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন সালাহ। উয়েফা তাৎক্ষণিকভাবে সালাহর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া না জানালেও পরে আরেকটি বিবৃতি দিয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেফেরিনের নামে সে বিবৃতিটি পোস্ট আকারে শেয়ার করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।

সে বিবৃতিতে সেফেরিন বলেছেন, ‘দুঃখ-কষ্টের মাঝেও যে মানুষের হৃদয়ে আনন্দ বিকশিত হতে পারে, সেটারই প্রমাণ ওবায়েদ। তিনি তাঁর প্রতিভা ও নিষ্ঠা গাজার শিশুদের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং কষ্টের মাঝেও তাদের স্বপ্নকে পূর্ণতা দানের আশা দেখিয়েছেন। যারা বিশ্বাস করে, খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করতে পারে, সেইসব মানুষ এবং ফুটবল বিশ্বের জন্য তাঁর (ওবায়েদ) মৃত্যু এক বিরাট ক্ষতি।’

প্রায় দুই বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি চলমান হামলায় গাজার ২৩ লাখের বেশিরভাগ মানুষই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, গত মে মাসের শেষ দিকে ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামের মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা চালুর পর ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে ১০০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সে তালিকায় গত বুধবার যোগ হয়েছে ‘ফিলিস্তিনি পেলে’ ওবায়েদের নাম।

পিএফএ গতকাল শনিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি, ক্লাবের বোর্ড সদস্যসহ এ পর্যন্ত শুধু ফুটবল অঙ্গনের ৩২৫ জন মারা গেছেন।