আগামী ১১ অক্টোবর বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামবে নরওয়ে। ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সেই ম্যাচের জন্য বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছে আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আলেক্সান্দর সরলথদের দেশ।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের হামলায় মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হওয়া মানুষদের পক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছে নরওয়ের ফুটবল। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইসরায়েলের ম্যাচ থেকে প্রাপ্য লভ্যাংশ গাজার মানুষের সাহায্যের জন্য দেবে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন।
গত মঙ্গলবার নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গাজার সাধারন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে মানবিক বিপর্যয় এবং একতরফা আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তাতে আমরা বা অন্য কোনো সংস্থা চুপ থাকতে পারি না। গাজায় প্রতিদিন জীবন বাঁচাচ্ছে এবং জরুরি সেবা দিচ্ছে এমন একটি মানবিক সংগঠনকে আমরা দান করতে চাই।’
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নরওয়ে–ইসরায়েল ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২৫ আগস্ট। এ ম্যাচের টিকিট বিক্রি করে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন কী পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের এমন উদ্যোগের পাল্টা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে ইসরায়েল ফুটবল ফেডারেশন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলা নরওয়ে ফুটবলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ইসরায়েলের ফুটবল ফেডারেশন। যা প্রথম প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ ।
বিবৃতিতে নরওয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে এই অর্থ কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে না পড়ে কিংবা তিমি শিকারে ব্যয় না হয়। শেষের ইস্যুটি নিয়ে নরওয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত হয়েছিল কিছুদিন আগে।
নরওয়ে ফুটবল জানিয়েছে, ১১ অক্টোবর ম্যাচের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উয়েফা ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে তারা কাজ করছে। উল্লেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে দর্শকদের জন্য আসনসংখ্যা ২৬ হাজার। কিন্তু অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য এই ম্যাচে তিন হাজার টিকিট কম ছাড়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সবশেষ ম্যাচে ইসরায়েল নরওয়ের কাছে ৪–২ গোলে হেরেছিল। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘আই’ গ্রুপে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নরওয়ে। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ইসরায়েল।