গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় এবার ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবল কোচদের সংগঠন - এআইএসি। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর দেখতে চাচ্ছে না কোচদের এই সংগঠনটি। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছে এআইএসি।
ইতালিয়ান কোচদের এমন পদক্ষেপ এমন সময়ে সামনে আসছে, যখন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আগামী দুই মাসে ইতালির বিপক্ষে ইসরায়েলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে। সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, নিজ দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে ইতালিয়ান কোচদের সংগঠনের পাঠানো এই চিঠি ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক দুই সংস্থা উয়েফা ও ফিফার কাছেও পাঠানো হবে।
ইতালিয়ান কোচদের এই সংগঠনের চিঠিতে স্পষ্ট বার্তা, ‘ইসরায়েলকে অবশ্যই থামতে হবে। ফুটবলকেও পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সেই চিঠি আর বলছে, ‘এআইএসি পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতভাবে বিশ্বাস করে যে, প্রতিদিনের হত্যাযজ্ঞ, যেখানে শত শত মৃত্যুর মধ্যে ম্যানেজার, কোচ ও অ্যাথলেটও নিহত হচ্ছেন... এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব উয়েফা এবং ফিফাতে উপস্থাপন করা বৈধ, প্রয়োজনীয় এবং প্রকৃতপক্ষে একটি কর্তব্য। কারণ অতীতে যা হয়েছে এসবের যন্ত্রণা কারও বিবেক ও মানবতাকে মুছে দিতে পারে না।’
ইসরায়েলের সঙ্গে খেলার ব্যাপারে এআইএসির সহ-সভাপতি জিয়ানকার্লো কামোলেসে বলছেন, ‘আমরা শুধু খেলার দিকেই মনোযোগ দিতে পারতাম। (গাজায় হত্যাযজ্ঞের) উল্টোদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারতাম। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এটা ঠিক হবে না।’
এআইএসির আরেক সহ-সভাপতি ফ্রানচেস্কো পেরোন্দি বলছেন, ‘বিশ্ব পুড়ছে। ফিলিস্তিনিদের মতো অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, এখানে উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না।’
ইতালির কোচদের এই চিঠির আগেও ইসরায়েলের সঙ্গে ইতালির ফুটবল ম্যাচ অনেক আলোচনা তৈরি করেছিল। গত বছরের অক্টোবরে উদিনেতেই উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। তখন খেলা শুরুর আগে ও খেলা চলার সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিলেন ইতালিয়ান নাগরিকরা। সেসময় স্টেডিয়ামের ছাদে স্নাইপার স্থাপনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
এত কিছুর মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ নিয়মিত গতি পাচ্ছে। ২২ মাসের যুদ্ধে ফিলিস্তিনে মৃতের সংখ্যা চলতি মাসের শুরুতে ৬২,০০০ ছাড়িয়েছে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ইতালির বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচটি ইসরায়েল খেলবে হাঙ্গেরির দেব্রেচেনে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৩ থেকে নিজের মাঠে খেলতে পারে না ইসরায়েল।