ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে বার্সেলোনায় এসে প্রথম চার ম্যাচে ছন্দহীন ছিলেন ইংলিশ তারকা মার্কাস রাশফোর্ড। লা লিগায় ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে গত রোববার এক অ্যাসিস্টে ছন্দে ফেরার আভাস দেন এই ফরোয়ার্ড। তবে নিজের সেরা ফর্ম ফিরে পেতে বেশি সময় নেননি রাশফোর্ড। নিজ দেশ ইংল্যান্ডে ফিরেই বার্সেলোনার জার্সিতে জোড়া গোল করে দলকে জিতিয়েছেন।
গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সেন্ট জেমস পার্কে রাশফোর্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।
মূলত লামিনে ইয়ামালের চোটের কারণে শুরুর একাদশে সহজেই জায়গা পান রাশফোর্ড। আর তাতেই করেন বাজিমাত। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোলের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮তম মিনিটে হেড থেকে বার্সার হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন রাশফোর্ড। এরপর ৬৭তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
দুই গোলে এগিয়ে থাকা বার্সাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি নিউক্যাসেল। শেষ দিকে ৯০তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন একটি গোল করে স্বাগতিকদের ব্যবধান কমালেও, পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।
ম্যাচ শেষে রাশফোর্ডের প্রশংসায় মেতেছেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তবে তিনি আরও জানিয়েছেন ইংলিশ এই তারকার সামনে এগিয়ে যাওয়া মাত্র শুরু হলো। ‘এটা রাশফোর্ডের জন্য প্রথম ধাপ মাত্র। তাকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। ইংল্যান্ডে নিউক্যাসেলের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে এমন পারফরম্যান্স ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। যা এখন সবচেয়ে জরুরি’ - ম্যাচ শেষে বলেছেন ফ্লিক।
প্রথম চার ম্যাচে রাশফোর্ড কিছু না করতে পারলেও নিউক্যাসলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে কোচ ফ্লিক মোটেও অবাক হননি। রাশফোর্ডে যোগ্যতায় ফ্লিকের ভরসা ছিল, ‘আমি (গোল দেখে) অবাক হইনি। ও অসাধারণ এক খেলোয়াড়। তার স্কিল ও ফিনিশিং সত্যিই দুর্দান্ত। প্রথমার্ধেও ও সুযোগ তৈরি করেছে, তবে শেষ করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে সেটাই করেছে।’
রাশফোর্ডকে নিয়ে যখন আলোচনা হচ্ছিল, তখন থেকেই তাঁকে বার্সেলোনায় চেয়েছিলেন বলে জানালেন ফ্লিক, ‘একজন স্ট্রাইকারের জন্য গোল করাটা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আমি ওর পারফরম্যান্সে খুব খুশি। ও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আমরা মৌসুম শুরুর আগে যখন দল গঠনের কথা ভাবছিলাম, তখন এমন একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলাম। যখন রাশফোর্ডকে আনার সুযোগ আসে, আমি বলেছিলাম, এটা আমাদের করতেই হবে।’
ম্যাচ শেষে ইংলিশ তারকা রাশফোর্ড তাঁর অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা। অন্য কিছু মাথায় নেই। আমরা জানি এই প্রতিযোগিতা কতটা কঠিন। বার্সেলোনার হয়ে খেলাটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই ক্লাবের সমর্থকরা ভালো ফুটবল দেখতে চায়, জয় দেখতে চায়। আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত ও অনুপ্রাণিত।’