সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে চারদিন আগে ৫-০ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। শুধু জয়ের ব্যবধানই নয়, ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সও প্রশংসা কুড়িয়েছে। রদ্রিগো, এস্তেভাও, ভিনিসিয়ুসদের পায়ে দারুণ সব গোল আর ছন্দোবদ্ধ ফুটবল দেখে মনে হয়েছিল, কার্লো আনচেলত্তির অধীনে বুঝি ধীরে ধীরে ব্রাজিল ‘ব্রাজিল’ হয়ে উঠছে!
কিন্তু চারদিন পর আবার ব্রাজিল ভক্তদের আশার বেলুন ফুটো হওয়ার জোগাড়। আজ জাপানের বিপক্ষে নেমেছে ব্রাজিল, আজও ম্যাচটা ৫ গোলই দেখেছে। তবে এবার তিনটা গোল হয়েছে ব্রাজিলের জালে! ‘এশিয়ার ব্রাজিল’ জাপানকে প্রথমার্ধে দুই গোল দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিজেরাই তিন গোল খেয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে আসল ব্রাজিল। নিজেদের ইতিহাসে ১৪তম ম্যাচে এসে এই প্রথমবার ব্রাজিলকে হারাল জাপান।
চার দিন আগে কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এনে শুরু করেছিলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। অবশ্য প্রীতি ম্যাচের উদ্দেশ্যই তো খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখা। বাজিয়ে দেখতে গিয়ে অন্তত আনচেলত্তি এটা নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, ব্রাজিলের রক্ষণভাগে ভালো বিকল্প খুব কম! দ্বিতীয়ার্ধে যে তিন গোল খেয়েছে ব্রাজিল, তার প্রথমটি তো প্রতিপক্ষকে উপহারই দিয়েছে, এর পরের দুটিও রক্ষণের সংগঠন ঠিকঠাক ছিল না।
অথচ ব্রাজিলের শুরুটা দারুণই হয়েছিল। ২৬ মিনিটে রাইটব্যাক পাউলো এনরিকের গোলে এগিয়ে যাওয়া, ৬ মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটি করেছেন গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কোরিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের পাঁচ গোলের মতো, এই দুটি গোলও যে দারুণ ঢংয়ে হয়েছে, তা ব্রাজিল সমর্থকদের মন না ভরিয়ে পারে না। এনরিকের গোলের আগে জাপান বক্সের ওপরে ডানদিকে যেভাবে দু-তিনটি ওয়ান-টু খেলে ডিফেন্ডারদের ধাঁধায় ফেলে বক্সে ফাঁকা জায়গায় থ্রু পেয়েছেন এনরিকে, সেটা চোখ ধাঁধিয়েছে। মার্তিনেল্লির গোলে মন রাঙিয়েছে লুকাস পাকেতার অ্যাসিস্টটা – ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে উঠিয়ে দেওয়া দুর্দান্ত লব!
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সব হিসেবনিকেশ পাল্টে গেল ব্রাজিলের। ৫২ মিনিটে তাকুমি মিনামিনোর গোলে জাপান ম্যাচে ফেরে। সে গোলের পেছনে জাপানের দারুণ প্রেসিংয়ের পাশাপাশি ‘অবদান’ ব্রাজিলের সেন্টারব্যাক ফাব্রিসিও ব্রুনোর এক মুহূর্তের ব্রেইন ফেইডে। জাপানের প্রেসিংয়ের মুখে কী করবেন বুঝতে না পেরেই কি না, শরীরের ভারসাম্য উল্টো পায়ে রেখে বল রিসিভ করেছিলেন। এরপর বক্সের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে পাস যখন দিলেন, সেটা সোজা গেল মিনামিনোর পায়ে।
দশ মিনিট পর কেইতো নাকামুরার গোলে সমতায় জাপান। ব্রাজিলের রক্ষণের ডানপাশ দিয়ে তিনি যখন উঠছেন, তাঁর ‘কয়েক ক্রোশ’ দূরত্বেও ব্রাজিলের কোনো ডিফেন্ডার ছিলেন না। ৭১ মিনিটে জাপান তৃতীয় গোলটা পেল কর্নার থেকে, ব্রাজিল ডিফেন্ডারের সামনে দিয়ে এসে হেড করে বেরিয়ে গেলেন আয়াসে উয়েদা।