নেইমারের অবস্থা দেখে মন খারাপ হবে সবার

গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল জাতীয় দলের নেওয়ার পর থেকে ৮টি ম্যাচ খেলেছে সেলেসাওরা। এর একটি ম্যাচেও খেলা হয়নি নেইমারের। খেলা তো দূরের কথা, ৩৩ বছর বয়সী তারকাকে স্কোয়াডেই ডাকেননি আনচেলত্তি।

ওদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মোটে ৬ মাসের কিছু সময় বাকি। জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত না ডাকলেও কয়েকদিন আগে আনচেলত্তি জানিয়েছেন, নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজা খোলা। কিন্তু একটা শর্তও দিয়ে রেখেছেন ব্রাজিলের ৬৬ বছর বয়সী এ ইতালিয়ান কোচ। নেইমারকে চোটমুক্ত হয়ে শারীরিকভাবে ফিট হতে হবে।

কোথায় ফিটনেস ফিরে পাওয়ার মিশনে নামবেন, উল্টো আবারও চোটে পড়েছেন নেইমার- এমন খবর দিয়েছে বেইন স্পোর্টস। নতুন করে পাওয়া হাঁটুর এ চোটের কারণে আজ ভোরে ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-তে ইন্তেরনাসিওনালের বিপক্ষে খেলা হয়নি তাঁর। নেইমারের এ নতুন চোটে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্রাজিল দলে নেইমারের জায়গা পাওয়া নিয়ে শঙ্কার খবর জানাচ্ছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো সাড়ে ছয় মাসের মতো বাকি। এখনই কেন নেইমারকে নিয়ে এমন শঙ্কার জায়গা তৈরি হচ্ছে? নেইমারের সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাসগুলো দেখলে সহজেই এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে।

জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমার শেষবারের মতো খেলেছেন ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ওই ম্যাচে চোট পান নেইমার, যে চোটের কারণে ৩৬৯ দিন আর মাঠে দেখা যায়নি ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।

এই চোটের মাত্র কয়েকদিন আগে ফরাসি ক্লাব পিএসজি ছেড়ে সৌদি ক্লাব আল হিলালে নাম লিখিয়েছিলেন নেইমার। এক বছর পর হিলালের জার্সিতে মাঠে নামার পর দুই ম্যাচে মোটে ৪২ মিনিট খেলে আবারও চোটে পড়েন তিনি। একের পর এক চোট- এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই নেইমারকে ছেড়ে দেয় হিলাল। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ ভাগে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে যান নেইমার। তার আগে হিলালের জার্সিতে প্রায় দেড় বছরের ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলেছেন মোটে ৭টি!

সে হিসেবে বললে গেলে সান্তোসে প্রত্যাবর্তনের পর তুলনামূলক সময়টা ‘ভালো’ যাচ্ছে নেইমারের। ব্রাজিলের ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচ খেলে ৭ গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন। কিন্তু চোট পিছু ছাড়ছে না নেইমারের। সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগ থেকে অক্টোবরের পুরোটা হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে থাকা নেইমার গত সপ্তাহে আবারও চোটে পড়েছেন। যে চোটে সান্তোসের জার্সিতে আজকের ম্যাচ খেলতে পারেননি নেইমার।

নেইমার যে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য নিয়েই সান্তোসে ফিরেছেন, সেটা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। সান্তোসের সভাপতি মার্সেলো টেইশেইরো সেটা রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছেন বিভিন্ন সময়। কিন্তু বারবার চোটে পড়ার কারণে সান্তোসেও নেইমারকে নিয়ে অসন্তোষ শুরু হয়েছে। ক্লাবের ভেতরেও যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে খবর দিয়েছে বেইন স্পোর্টস।

এদিকে সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত। এরপর নেইমার হয়ে যাবেন ফ্রি এজেন্ট। নেইমারের সঙ্গে এখন পর্যন্ত নতুন চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনাও করেনি সান্তোস। তবে ক্লাবটির সভাপতি টেইশোরোর বিশ্বাস, সান্তোসের হয়েই চালিয়ে যাবেন নেইমার, এবং আগামী বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে নেইমারকে দেখা যাবে।

এ প্রসঙ্গে টেইশেইরো বলেছেন, ‘নেইমারের লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা। যদি ওর সঙ্গে (ক্লাবের) সমঝোতা হয়, তবে ও চুক্তি বাড়াবে। ওর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো, এবং সঠিক সময়ে চুক্তির বিষয়টি সমাধান হবে বলে আমি মনে করি।’

সান্তোস সভাপতি নেইমারের ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকতেই পারেন। কিন্তু ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমারের শেষ ম্যাচের পর থেকে চোট পরিসংখ্যান একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

চোটের ধরন

হতে

পর্যন্ত

কতদিন বাইরে

ম্যাচ মিস (ক্লাব)

হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া

১৯ অক্টোবর, ২০২৩

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

৩৪০

৪৮

ফিটনেস ইস্যু

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

৩ নভেম্বর, ২০২৪

৪২

হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট

৪ নভেম্বর, ২০২৪

১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

৪৩

ফিটনেস

১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

৪৯

হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট

৪ মার্চ, ২০২৫

১২ এপ্রিল, ২০২৫

৪০

হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট

১৭ এপ্রিল, ২০২৫

২৫ মে, ২০২৫

৩৫

হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

৩১ অক্টোবর, ২০২৫

৪৩

হাঁটুর সমস্যা

২০ নভেম্বর, ২০২৫

বর্তমান

৬*

২*

ট্রান্সফারমার্কেট থেকে প্রাপ্ত এ ডাটা অনুসারে, ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের শেষ ম্যাচ খেলার ৩ বছর ১ মাস ৭ দিন পেরিয়েছে। দিনের হিসেবে ১১৩৪ দিন। এ সময়কালের ৫৯৮ দিনই চোট বা ফিটনেসের কারণে মাঠের বাইরে থেকেছেন নেইমার।