সপ্তাহ দুয়েক আগে ডাবলিয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পর্তুগালের ২-০ ব্যবধানে হারার ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আইরিশ ডিফেন্ডার দারা ও’শিয়াকে কনুই মেরে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
প্রতিপক্ষের কাউকে কনুই মেরে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে রোনালদোকে ছাড়াই একটা ম্যাচ খেলেছে পর্তুগাল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দলটির আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না থাকায় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের শুরুতে রোনালদোর খেলা নিয়ে শঙ্কা জেগেছিল।
তবে ফিফার বিশেষ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন রোনালদো। গতকাল পর্তুগিজ অধিনায়কের শাস্তির রায় প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেখানে রোনালদোর কর্মকাণ্ডকে ‘সহিংস আচরণ’ ও ‘গুরুতর ফাউল প্লে’ হিসেবে উল্লেখ করে পর্তুগিজ অধিনায়ককে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে দুটি নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। আর যে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা, সেটা এরই মধ্যে কাটিয়ে ফেলেছেন রোনালদো। অর্থাৎ পরের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই খেলতে বাধা থাকছে না রোনালদোর!
এ প্রসঙ্গে ফিফা জানিয়েছে, শাস্তির একটি অংশ পরীক্ষামূলকভাবে (প্রবেশনারি) স্থগিত রাখার বিধান আছে তাদের শৃঙ্খলা বিধিতে। তবে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় দুটি স্থগিত রাখা বিরল ঘটনাই বটে। আর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সমালোচনা হওয়ারই কথা। চলতি মাসে প্রায় একই ধরনের ঘটনায় লাল কার্ড দেখেছিলেন আর্মেনিয়া ও বুরুন্ডির দুই খেলোয়াড়। তাদেরও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো শাস্তি স্থগিত রাখেনি ফিফা।
রোনালদোর শাস্তি স্থগিত রাখার ব্যাপারে ফিফা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘পরীক্ষামূলক সময়ের (প্রবেশনারি পিরিয়ডে) মধ্যে রোনালদো একই ধরনের গুরুতর কোনো অপরাধ করলে বাকি দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
এই রায়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগে রোনালদো যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে এক জমকালো ডিনারে অংশ নিয়েছিলেন। সেই ডিনারে উপস্থিত ছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
এদিকে রোনালদো প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি লিগে খেলছেন। তাঁর দল আল নাসর দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড দ্বারা পরিচালিত। ওই ফান্ডের চেয়ারম্যান আবার সৌদি যুবরাজ। এসব বিষয় টেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনা কম হচ্ছে না।
ফিফা তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, তিন ম্যাচের যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেটি আপিল কমিটিতে আপিল যোগ্য। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে আয়ারল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন নাকি পর্তুগালের বিশ্বকাপ প্রতিপক্ষদের অধিকার থাকবে, সেটা স্পষ্ট করেনি ফিফা।
আগামী ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে ফিফার ড্র অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নিশ্চিত হবে, গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের সঙ্গী হবে কোন তিন দল।