ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার জুনিয়রের আবারও ফেরা এবার এক প্রকার অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছে। গতকাল নতুন করে হাঁটুতে চোট পাওয়ায় ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-তে ইন্তেরনাসিওনালের বিপক্ষে খেলা হয়নি তাঁর।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোএস্পোর্তের প্রতিবেদন, বাঁ হাঁটুর মেনিস্কাসে সমস্যা থাকার কারণে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ তিন রাউন্ডে নেইমার খেলতে পারার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। শুধু তা-ই নয়, ব্রাজিলের হয়ে জাতীয় দলে ফেরাটাও এক প্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ব্রাজিলের সেরি আ-তে আর তিন রাউন্ড বাকি এই মৌসুমে, এরপর আগামী মৌসুম শুরু হতে হতে মার্চ। নেইমার ততদিনে সান্তোসে থাকবেন কি না, থাকলেও কী অবস্থায় থাকবেন, সেটা তো একটা প্রশ্নই। তারওপর মার্চে লিগ শুরু হতে হতে ততদিনে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলও গোছানো প্রায় শেষ হয়ে যাবে! সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে নেইমার খেলতে না পারার জোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই বলে রেখেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারকে শুধু তখনই নেবেন, যখন নেইমার পুরোপুরি ফিট হবেন। কিন্তু সান্তোসে যাওয়ার পর থেকেই বারেবারে চোটে পড়া নেইমার যদি এই বছরে আর নামতে না পারেন, তাহলে আর আনচেলত্তির কাছে নিজেকে প্রমাণের উপায় কোথায় থাকল! তারওপর নেইমারের চোট এমন সময়ে এল, যখন সান্তোস লিগে অবনমনের দ্বারপ্রান্তে।
নেইমারের আঘাত সেই একই হাঁটুতে, যেখানে তিনি ২০২৩ সালে লিগামেন্ট অস্ত্রোপচার করেছিলেন—বাঁ হাঁটু। ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে নেইমার ব্যথ্যা অনুভব করেছিলেন, কিন্তু তাকে বদলি করা হয়নি এবং পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। সম্প্রতি নেইমার সেই জায়গায় ফের ব্যথা অনুভব করায় মঙ্গলবার সাও পাওলোর একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে যান।
গ্লোবোএস্পোর্তে লিখেছে, এখনো বলা যাচ্ছে না যে তাকে আর্থ্রোস্কোপি (অস্ত্রোপচারের একটি পদ্ধতি) করতে হবে কি না, তবে সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অস্ত্রোপচার করতেই হয় তাহলে বিশ্বকাপ খেলাটা যে ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে তা নিশ্চিত।
মূলত ফের চোটে পড়া নেইমার নির্ধারিত সময়ের আগেই পূর্ণাঙ্গ ফিট না হয়ে মাঠে খেলতে নামায় হাঁটুর ওই ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।
এই চোট আবারও সান্তোসে তার ধারাবাহিকতায় বড় বাধা সৃষ্টি করেছে। ডান উরুর রেক্টাস ফেমোরিসে আঘাতের কারণে ৪০ দিন মাঠের বাইরে থাকার পর তিনি ফোর্তালেজার বিপক্ষে ফিরে এসেছিলেন, যদিও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাঁকে আরও সময় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
নেইমার ফ্লামেঙ্গো, পালমেইরাস ও মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন—সে সময় কিছু অনুভব করেছিলেন, কিন্তু খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন। গত সোমবার ইন্তেরনাসিওনালের বিপক্ষে তিনি খেলেননি। আর সান্তোসের শেষ তিন ম্যাচ—স্পোর্ট, ইউভেন্তুদে এবং ক্রুজেইরোর বিপক্ষে— তার নামার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।
নেইমারের এই চোট নিয়ে এখন পর্যন্ত সান্তোসে এক বছরে চতুর্থ বার বাইরে গেলেন তিনি। এসব কিছুই তাকে ব্রাজিলিয়ান জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
চোটে জর্জরিত নেইমারের আরেকটি দুঃসংবাদ সান্তোসে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে। ক্লাবের সাথে এই ফরোয়ার্ডের চুক্তি ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং চুক্তি নবায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি।