ফুটবলে একটা রাত কতটা পাগলাটে হতে পারে, সেটার সবটাই দেখা গেছে গতকাল বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ দিনের ম্যাচগুলোতে। আর সেই পাগলাটে রাতে সবচেয়ে বড় অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার শিকার বোধহয় রেয়াল মাদ্রিদ!
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকালের আগে ৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে ছিল আলভারো আরবেলোয়ার দল। এমন অবস্থায় সরাসরি টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে বেনফিকার সঙ্গে ড্র করলেই চলত রেয়াল মাদ্রিদের। কিন্তু ড্র তো দূরে থাক, হোসে মরিনিওর দলের কাছে মাদ্রিদ হেরে বসেছে ৪-২ ব্যবধানে। আর সেটাও কী মহা নাটকীয়তায়!
সে নাটকীয়তা শেষে রেয়াল মাদ্রিদ (৮ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট) নেমে গেছে পয়েন্ট টেবিলের ৯ নম্বরে । অর্থাৎ শেষ ষোলোতে জায়গা পেতে আরবেলোয়ার দলকে এখন প্লে-অফ খেলতে হবে। অন্যদিকে মাদ্রিদকে টেনে প্লে-অফের ঝক্কিতে নামানো বেনফিকাও নাটকীয়ভাবে প্লে-অফের শেষ টিকিটটা পেয়েছে। ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ২৪ নম্বরে থাকায় পরের রাউন্ডে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে মরিনিওর দল।
বারবার পাগলাটে রাত কিংবা নাটকীয়তার কথা বলা হচ্ছে। তা কী এমন ঘটনা ঘটেছে গতকাল? এদিন রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা ৩৬ দলই মাঠে নেমেছিল। ১৮টি ম্যাচের মধ্যে ১৭টি ম্যাচই তখন শেষ। শেষ বাঁশির অপেক্ষায় ছিল শুধু রেয়াল মাদ্রিদ-বেনফিকা ম্যাচ।
নির্ধারিত সময় শেষে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বেনফিকা। এমন অবস্থায় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে অন্তত আরও একটি গোল দরকার ছিল মরিনিওর দলের। অন্যদিকে সরাসরি নকআউটের টিকিট পেতে মাদ্রিদেরও দরকার ছিল এক গোল। কিন্তু ম্যাচের যোগ করা সময়ে একে একে লাল কার্ড দেখে বসেন আসেনসিও ও রদ্রিগো। নাটকের সেখানেই শেষ নয়।
শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে ফ্রি কিক পায় বেনফিকা। শেষ সুযোগ হিসেবে বেনফিকার গোলকিপার আনাতলি ত্রুবিনও চলে যান রেয়াল মাদ্রিদের বক্সে। এরপর ফ্রেডরিক অরনেসের নেওয়া ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত এক হেডে স্কোরলাইন ৪-২ করেন বেনফিকার ইউক্রেনিয়ান গোলকিপার। পর্তুগিজ ক্লাবটির প্লে অফে জায়গা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদ্রিদকেও টেনে নামান একই কাতারে।
এর আগে নির্ধারিত সময়ে ৩০ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল মাদ্রিদ। ৬ মিনিট পর আন্দ্রে শেল্ডারআপের গোলে সমতায় ফেরার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পাভলিদিসের পেনাল্টি গোলে এগিয়ে (২-১) যায় বেনফিকা। বিরতির পর ৫৪ মিনিটে শেল্ডারআপ স্কোরলাইন ৩-১ করেন। চার মিনিট পর ব্যবধান কমান এমবাপ্পে। এরপর যোগ করা সময়ে ত্রুবিনের গোলে সেই ‘পাগলাটে’ মুহূর্ত। যা বদলে দেয় মাদ্রিদের নক আউটের গতিপথ।
ম্যাচ শেষে মাদ্রিদের সাবেক ও বেনফিকার বর্তমান কোচ মরিনিও বলেছেন, ‘এই জয়টা ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ।’ গোলকিপার ত্রুবিনের প্রশংসায় মরিনিও বলেছেন, ‘আমি জানতাম, ও (ত্রুবিন) এটা করতে পারে। আপনাকে শুধু বলটা সেখানে (ত্রুবিনের কাছে) পাঠাতে হতো। এই ছেলেটার জন্য এটা একটা অবিশ্বাস্য গোল।’
ম্যাচের হিরো ত্রুবিন বলেছেন, ‘এটা একেবারে পাগলাটে মুহূর্ত। আমি গোল করতে অভ্যস্ত নয়। আমার বয়স ২৪ বছর, আর এটাই আমার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।’