বিশ্বকাপে ইরানের বিকল্প ভাবছে ফিফা 

ক্ষতি হচ্ছে ইরানের, তাতে লাভের গুড়টা খেতে যাচ্ছে ইরাক নয়তো আমিরাত?

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি গতকাল স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। ইরানের তরফ থেকে এমন ঘোষণার পর বিকল্প পথে হাঁটছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। 

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী গতকাল জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর যে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব না।

ইরান বিশ্বকাপে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার কথা। এবার বিশ্বকাপ থেকে দলটি সরে দাঁড়ালে বিকল্প কারা খেলবে সেই সিদ্ধান্ত ফিফার। 

বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে ফিফা চাইলে যেকোনো দেশকে বদলি হিসেবে সুযোগ দিতে পারে। এই ব্যাপারে ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি পরিচালক জেমস কিচিং রয়টার্সকে বলেন, ‘এমন ঘটনার কোনো নজির আধুনিক ফুটবলে নেই এবং দল বয়কটের ক্ষেত্রে পুরো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ফিফার রয়েছে।’  
      
তার মতে, বদলি দল একই কনফেডারেশন থেকে না-ও হতে পারে, এমনকি কোনো দলকে না নিয়েও টুর্নামেন্ট চালানো সম্ভব — যদিও রাজনৈতিকভাবে তা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সেটি ভিন্ন প্রশ্ন।

তবে একদিকে ইরান যখন বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তের কারণে ফিফার দিক থেকে শাস্তি পেতে পারে বলে গুঞ্জন, তার বিপরীতে ইরানের বদলি হিসেবে কারা সুযোগ পেতে পারে, সে আলোচনায় এখন পর্যন্ত লাভের গুড়টা ইরাক নয়তো আরব আমিরাত খেতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে বেশি।
 
ইরান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এশিয়ার গ্রুপ ‘এ’-তে শীর্ষে থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছিল। ফলে বদলি দল এশিয়া থেকে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম আলোচনায়। তবে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইরাকের প্রস্তুতিতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইরাক অবশ্য এমনিতেই আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে ইরাকের সেই ম্যাচ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
 
ইরাক কোচ গ্রাহাম আরনল্ড ফিফার কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচটি পিছিয়ে বিশ্বকাপের কাছাকাছি সময়ে আয়োজন করা হয়। এতে একদিকে ইরানের অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে এবং অন্যদিকে সম্ভাব্য বদলি দল প্রস্তুতির সময় পাবে। বিশ্বকাপের শেষ প্লে-অফ ম্যাচগুলো মার্চের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা।

ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রী দোনিয়ামালির বক্তব্যের পর এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের বদলি দল নিয়ে তারা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

সূত্রটি আরও জানায়, ‘বিশ্বকাপ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ফিফার এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে। এই মুহূর্তে এ নিয়ে আরও কোনো অনুমান করা মানে আগ বাড়িয়ে কথা বলা।’ 

তবে বিশ্বকাপে খেলা বিভিন্ন কনফেডারেশনের জন্য বহুল আকাঙ্ক্ষিত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সরে দাঁড়ালে বদলি দল যেন এশিয়া থেকেই নেওয়া হয় — সে বিষয়ে এএফসি জোরালোভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।