ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সান মারিনোর সেরাফাল্লে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ, যিনি জোড়া গোল করে দলকে এনে দেন স্মরণীয় এই জয়। একই সঙ্গে নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনেও এটি বাংলাদেশের শুভসূচনা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১১তম স্থানে থাকা সান মারিনোর বিপক্ষে ১৮১তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রবাসী বাংলাদেশি সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে গ্যালারিও ছিল প্রাণবন্ত।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে শেখ মোরসালিনের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে প্রথম গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। তবে ৩১ মিনিটে ফিলিপ্পো বেরার্দির পাস থেকে নিকোলাস জাকোপেত্তি গোল করে সমতায় ফেরান স্বাগতিকদের।
১-১ সমতায় বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ চালায়। ৫৩ মিনিটে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে ৬১ মিনিটে লরেঞ্জো কাপিক্কিওনির বিপজ্জনক প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে পরিবর্তন এনে ফাহামিদুল ইসলাম ও বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান কোচ টমাস ডুলি। ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ৮৬ মিনিটে আসে নির্ধারণী মুহূর্ত। হামজা চৌধুরীর নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে ডি-বক্সে সৃষ্ট জটলার মধ্যে বিশ্বনাথ ঘোষের শটে মাথার ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন তপু বর্মণ।
তপুর জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।