ইস্তানবুল-আনকারার সকালটা এমন হবে তা হয়ত কেউই ভাবেননি। কিন্তু দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরার যে তৃপ্তি তা মাত্র দুই ম্যাচেই শেষ হয়ে গেছে তুরস্কের। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের হারে বিশ্বকাপটাই শেষ আর্দা গুলেরদের। গ্রুপ পর্বে এখনো এক ম্যাচ বাকি তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেই ম্যাচে নামার আগেই টানা দুই হারে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে তুরস্কের।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই রীতিমত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষে তুরস্কের তরুণ রিয়াল মাদ্রিদের তারকা আর্দা গুলের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা লজ্জিত। আমরা আমাদের দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমরা বড় বড় ক্লাবে খেলি, কিন্তু মাঠে তা দেখাতে পারিনি। দুই ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যাতে মানুষ এই টুর্নামেন্টের হতাশা ভুলে যেতে পারে।’
আর্দা গুলেরের দল হতাশ করলেও প্রথম দুই ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। দাপটের সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল তুরস্ক, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। প্রথম দুই ম্যাচে তুরস্ক মোট ৬২টি শট নিয়েছে, কিন্তু একবারও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পারেনি। এর মধ্যে ৩১টি শটই ছিল পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে। আক্রমণে আধিপত্য দেখিয়েও গোলের সামনে কার্যকারিতার অভাবে তাদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে।
অথচ সম্ভাব্যতার হিসেবে তুরস্কের শট নেওয়া সংখ্যা অনুযায়ী অন্তত ৩.৫টি গোল করার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোলের খাতা খুলতে না পারায় ২০২৬ বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় নেতিবাচক ব্যবধানের রেকর্ড গড়েছে তারা।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে দেনিজ গুলের সহজ সুযোগ নষ্ট করা যেন পুরো টুর্নামেন্টে তুরস্কের গোল করার ব্যর্থতার প্রতীক।
এক ম্যাচ আগেই গ্রুপ ডি-তে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে উভয়েরই সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। এই দুই দলই ইতোমধ্যে তুরস্ককে হারিয়েছে, ফলে পরের ম্যাচ জিতে তুরস্কের সমান পয়েন্ট হলেও হেড-টু-হেড হিসেবে তুরস্ক তাদের নিচেই থাকবে। এজন্য বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে দলটির।
ম্যাচ শেষে তুরস্কের কোচ ভিনচেনজো মন্তেল্লা খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি দুঃখিত, তবে একই সঙ্গে আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত তারা লড়াই করেছে। ফুটবল এমনই।’