ব্রাজিলের নকআউট পর্বে যেতে এখন সমীকরণটা কী?

অবশেষে বিশ্বকাপে জয়ের ধারায় ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। হেক্সা জয়ের মিশনে এসে প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে হোঁচট খেয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু শনিবার সকালে গ্রুপ সি'র দ্বিতীয় ম্যাচেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করলেও নকআউট পর্বে উত্তরণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট পেতে শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সমীকরণটা কেমন হবে- চলুন সেটাই দেখে নেওয়া যাক।

গ্রুপ সি'তে এখন কার অবস্থান কোথায়?

ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি- এই চার দলকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ সি। চার দলই এখন পর্যন্ত ২টি করে ম্যাচ খেলেছে। ব্রাজিলের পাশাপাশি মরক্কোও ২ ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট পেয়েছে, যদিও গোল পার্থক্যে শীর্ষে আছে ভিনিসিয়ুস-নেইমারদের দলই। স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৩, আর হাইতি এখনও পর্যন্ত পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। অর্থাৎ, গ্রুপে এই মুহূর্তে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলের পরেই অবস্থান করছে মরক্কো; আর এর পরের দুটি স্থানে স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

আগামী ২৫ জুন বৃহস্পতিবার ভোরে গ্রুপ সি'র শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। একই সময়ে মরক্কো খেলবে হাইতির বিপক্ষে। এবারে দেখা যাক শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল জয় পেলে, ড্র করলে এবং হেরে গেলে সমীকরণটা কেমন দাঁড়ায়।

স্কটল্যান্ড ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল যেকোনো ব্যবধানে জয় পেলেই গ্রুপের শীর্ষ দুইয়ে থেকে নকআউট রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে তাঁদের। কিন্তু শেষ ম্যাচে মরক্কোও যদি জয় পায় সেক্ষেত্রে ব্রাজিল ও মরক্কো দু'দলেরই পয়েন্ট হবে সমান ৭। যেহেতু প্রথম ম্যাচে একে অন্যের বিপক্ষে, অর্থাৎ হেড-টু-হেড লড়াইয়ে, তাঁরা ড্র করেছে, সেহেতু গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকা দলই গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউট রাউন্ডে যাবে।

আপাতত গোল পার্থক্যে মরক্কোর চেয়ে ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে আছে ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল হাইতির বিপক্ষে মরক্কো যদি বড় ব্যবধানের জয় তুলে নেয়, সেক্ষেত্রে গোল পার্থক্যে ব্রাজিলকে পেছনেও ফেলে দিতে পারে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। 

এখানে বলে রাখছি, গ্রুপ সি'তে শীর্ষে থাকা দলটি রাউন্ড অব ৩২-তে মুখোমুখি হবে গ্রুপ এফ-এর দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। আর গ্রুপ সি'র দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল পরের রাউন্ডে খেলবে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে থাকা দলের বিপক্ষে। প্রশ্ন হচ্ছে, কারা আছে, গ্রুপ এফে? ব্রাজিল-মরক্কোর জন্য গ্রুপ এফ থেকে প্রতিপক্ষ হতে পারে ইউরোপের পরাশক্তি নেদারল্যান্ডস, ফর্মে থাকা সুইডেন, কিংবা এশিয়ান জায়ান্ট জাপান। 

ফলে বুঝতেই পারছেন, গ্রুপের শেষ ম্যাচে লড়াইটা কেবলই নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়া নয়, বরং শীর্ষে থেকে রাউন্ড অব ৩২-তে যাওয়া।

স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ব্রাজিল ড্র করলে

এবার দেখা যাক, স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ব্রাজিল ড্র করলে সমীকরণটা কেমন দাঁড়ায়। ম্যাচটা ড্র হলেও নকআউটের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের। সেক্ষেত্রে ব্রাজিলের পয়েন্ট হবে ৫, স্কটল্যান্ডের ৪, আর শেষ ম্যাচে মরক্কো যদি হাইতিকে হারায় তাহলে তাঁদের পয়েন্ট হবে ৭। অর্থাৎ, গ্রুপে শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডে যাবে আফ্রিকার দেশ মরক্কো, আর ব্রাজিল উঠবে দ্বিতীয় স্থানে থেকে।

সার্বিকভাবে এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় কিংবা ড্র- দুটোর যেকোনো একটি পেলেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে সাম্বার দেশ ব্রাজিলের। 

স্কটল্যান্ডের কাছে ব্রাজিল হেরে গেলে

এবারে ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য অপ্রিয় এক সমীকরণের দিকে চোখ রাখা যাক। ব্রাজিল যদি স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে যায় সেক্ষেত্রে কী হবে? কেননা ব্রাজিলকে হারালে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে চলে যাবে স্কটল্যান্ড এবং এর মাধ্যমে পরের রাউন্ডের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে যাবে স্কটিশদের। অন্যদিকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া ব্রাজিলের তখন শেষ ভরসা হবে, হাইতির কাছে মরক্কোর হার। কেননা হাইতির সাথে ড্র করলেই মরক্কোর পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৫ এবং সেক্ষেত্রে ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে থেকে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করবে তাঁরা। আর গ্রুপে ব্রাজিলের অবস্থান হবে তৃতীয়। 

কিন্তু শেষ ম্যাচে হারলেই কি টুর্নামেন্ট থেকে ব্রাজিলের বিদায় ঘন্টা বেজে যাবে? না, সেক্ষেত্রে আরেকটা সম্ভাবনার দুয়ার খোলা থাকবে। আর তা হচ্ছে, ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা ১২টি দলের মধ্যে সেরা ৮ দলের মাঝে জায়গা করে নিতে হবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে। আর তাহলেই তৃতীয় স্থানে থেকেও পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে ব্রাজিল।

নেইমার ফিরছে স্কটল্যান্ড ম্যাচে

ব্রাজিল ভক্তরা এতসব সমীকরণের ধার ধারতে চাইবেন না সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে, কোচ আনচেলত্তি যখন জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্কটল্যান্ড ম্যাচ দিয়েই ইনজুরি থেকে ফিরছেন সুপারস্টার নেইমার, তখন ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকবে, স্কটল্যান্ডকেও উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই সেলেসাওরা পৌঁছাবে নকআউট পর্বে।

হেক্সা জয়ের আশায় ব্রাজিলের ২৪ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হবে, নেইমারের হাতে উঠবে সেই বহুল-আরাধ্য সোনালী ট্রফিটা- এমনটাই প্রত্যাশা ব্রাজিল সমর্থকদের। হ্যাঁ, হেক্সা মিশনে মরক্কোর বিপক্ষে শুরুটা ভালো হয়নি তাঁদের। কিন্তু ২০১০ সালে স্পেন এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচ হেরেও বিশ্বকাপ জয় করেছিল। ১৯৯৪ সালে নড়বড়ে এক দল নিয়েও বিশ্বকাপ ট্রিফটা হাতে নিয়েছিল রোমারি-বেবেতোদের ব্রাজিল। সেটাও আবার মার্কিন মুলুকেই।

তাই নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিলকে ঘিরে সমর্থকদের মনে প্রত্যাশার পারদটা যে কমছে না, এটা নিশ্চিত। প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রত্যাশার কতটা পূরণ করতে পারবে আনচেলত্তির দল? নেইমার ফিরলে ব্রাজিল কি আবারও ব্রাজিলের মতো খেলতে শুরু করবে? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, ব্রাজিল কি পারবে হেক্সা জয়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে? উত্তরটা আপাতত সময়ের হাতেই ছেড়ে দেওয়া যাক।