ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

হেক্সা মিশনে সক্ষমতার জানান দিল ব্রাজিল

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর চারপাশে ওঠে সমালোচনার ঝড়। আলোচনা হতে থাকে ব্রাজিলের দুর্দশা নিয়ে। দলে ন্যাচারাল স্ট্রাইকার নেই, মিডফিল্ডের অবস্থাও যাচ্ছেতাই। এই ছন্নছাড়া ব্রাজিল কতদূর কী করতে পারবে, সেটা নিয়েও ওঠে প্রশ্ন। তবে সমালোচনার জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। আজ (শনিবার) হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। তার চেয়েও বড় কথা, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্রাজিল যেন প্রতিপক্ষের জন্য একটা হুঁশিয়ারি বার্তাই পাঠাল। জানান দিল, হেক্সা মিশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ব্রাজিল।

ব্রাজিল আজকে কেমন খেলেছে, এ নিয়ে সমর্থকদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। প্রথমার্ধেই হাইতির জালে তিন গোল দেওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। এর বাইরে ব্রাজিলের আরও দুটি গোল বাতিল হয়েছে অফসাইডের কারণে। তবে স্কোরলাইন ছাপিয়ে ব্রাজিল সমর্থকদের বড় স্বস্তির জায়গা হচ্ছে, তাদের প্রিয় দল ছন্দে ফিরেছে। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন, জানিয়েছেন ভিনিসিয়ুস-কুনিয়ারা ভালো খেলেছেন।

মরক্কো ম্যাচে বলতে গেলে ব্রাজিল মিডফিল্ডকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তবে আজ সেই হতাশা অনেকটাই কেটেছে। গিমারেস-পাকেতা-কাসেমিরো ত্রয়ী একসঙ্গে যে সেতু গড়েছেন, তা রক্ষণকে যেমন ভরসা দিয়েছে, তেমনি আক্রমণভাগও পেয়েছে পর্যাপ্ত বলের যোগান।

অবশ্য কেউ কেউ বলতে পারেন, প্রতিপক্ষ হাইতি তো র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮০-এর ওপরে থাকা একটি দল। ছোট দলের সঙ্গে এমন বাহাদুরি দেখিয়ে আর কী হবে! কিন্তু এটাও জেনে রাখা উচিত, বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলই ছোট নয়, সেটার ঝলক তো এবারই দেখিয়েছে কেপ ভার্দে-ডিআর কঙ্গোরা। 

আজকের ম্যাচেও প্রথম ১০ মিনিটে হাইতি বেশ ভয় ধরিয়েছিল ব্রাজিল রক্ষণে। সেটা সামলে উঠতে অবশ্য খুব বেশি সময় নেয়নি আনচেলত্তি শিষ্যরা। দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রাজিল বুঝিয়ে দেয়, আজকের ব্রাজিল কতটা গোছানো, কতটা পরিচ্ছন্ন। প্রথমার্ধেই তিন গোল দিয়ে ব্রাজিল জানান দিয়েছে, আক্রমণভাগ জ্বলে উঠলে কতটা ভয়ংকর হয় উঠতে পারে তারা।

কিছুটা হতাশাও আছে। রাফিনিয়া চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি, উল্টো হাইতি দুয়েকবার আক্রমণে ভয় ধরিয়েছিল। তবে সব সামলে জমাট রক্ষণ আর আলিসন বেকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ক্লিনশিট রেখেই ম্যাচ শেষ করে ব্রাজিল।

ব্রাজিল আজ খেলেছে বিশ্বকাপে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়স্ক দল নিয়ে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে খেলিয়েছে ২০ বছরের কম বয়সী দুই ফুটবলার রায়ান ও এনদ্রিককে। এ যেন অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারণ্যের দারুণ সংমিশ্রণ। এই ব্রাজিলে যখন ফিট নেইমার যুক্ত হবেন, তখন ব্রাজিল আরও কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠবে, সেটা বোধহয় না বললেও চলে।