দর্শকদের হাতে হাতে এখন দেখা যাচ্ছে রঙিন ‘ফ্যান ব্যান্ড’। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এই ব্রেসলেট কিনতে কোনো টাকাই লাগছে না। একেবারে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে এগুলো। বিশ্বকাপের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মারকে পরিণত হওয়া এই ব্রেসলেট সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে।
এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে ভুভুজেলা আর ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী 'কোকোশনিক' ছিল দর্শকদের জনপ্রিয় স্মারক। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই জায়গা দখল করেছে ছোট ছোট চার্ম দিয়ে সাজানো ‘ফ্যান ব্যান্ড’।
বিশ্বকাপের এই সিজনে ফ্যান ফেস্টিভ্যালে আগাম বুকিং দিয়ে নিজের পছন্দমতো চার্ম বেছে নিয়ে ব্রেসলেট তৈরি করছেন দর্শকরা। আবার ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামের বাইরেও ব্রেসলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি ফ্যান ব্যান্ড সংগ্রহ করেছেন সমর্থকেরা।
প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা চার্ম। নিউইয়র্কের সংগ্রহে রয়েছে পিজ্জার টুকরা, স্ট্যাচু অব লিবার্টিসহ শহরের পরিচিত নানা প্রতীক। নকআউট পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালের জন্যও যুক্ত হয়েছে নতুন ডিজাইনের চার্ম।
মজার বিষয় হলো, এই ব্রেসলেটের পৃষ্ঠপোষক ব্যাংক অব আমেরিকা হলেও কোথাও বড় করে তাদের নাম লেখা নেই। শুধু ছোট্ট একটি লোগো রয়েছে, যা অনেকের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশার অংশ বলে মনে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনকার দর্শকরা এমন স্মারকই বেশি পছন্দ করেন, যা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের বড় বিজ্ঞাপন বহন করে না। তাই অনেকেই বলেছেন, এই ব্রেসলেট বিক্রি করবেন না; বরং বিশ্বকাপের স্মৃতি হিসেবে আজীবন যত্ন করে রেখে দেবেন।