আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। ২-১ ব্যবধানের জয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নর্ডিকরা।
১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপ থেকে এতো দ্রুত আর বিদায় হয়নি ব্রাজিলের। নরওয়ে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন নেইমার।
ব্রাজিলের হেক্সা মিশন আবারো ব্যর্থ। গেল ৩৬ বছরে ফুটবল বিশ্বকাপে এতো দ্রুততম বিদায় আর হয়নি সেলেসাওদের। নরওয়ের এ উৎসব তাই থামছেই না। খেলা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ সেলিব্রেশন চললো, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের। নাচে গানে আর ট্রেডমার্ড ভাইকিং রো'তে বাঁধভাঙা উল্লাস নরওয়েজিয়ানদের।
এমন আনন্দ হবেই বা না কেন! ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। তাদেরকে কেন এবারের বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স বলা হচ্ছে, তা হারে হারে বুঝিয়ে দিল।
১৪ মিনিটেই ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু গিমারাসের শটের গতিপথ বুঝে, আটকে দেন নরওয়ের গোলকিপার।
এরপরও মিডফিল্ডার ও উইঙ্গারদের নৈপুন্যে বেশ ক'বার গোলের সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। হয়নি শুধু ফিনিশিংয়ের অভাবে। বিরতির পর বদলি নামা এনড্রিক, ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত থ্রু বল পেয়ে, যেভাবে মিস করলেন, তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।
পুরো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন এক অতিমানবীয় ফিনিশার। আর্লিং হালান্ড। অল্প যে ক'টি সুযোগ পান, সবগুলোকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন তিনি। শেষ সময়ে দুই গোল দিয়ে বাজিমাত করেন এই দুর্দান্ত স্ট্রাইকার।
হালান্ড লিড এনে দেয়ার পর, গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। কাউন্টার অ্যাটাকে আবারো সুযোগ আসে হালান্ডের। এবার ঠান্ডা মাথায় বুলেট গতির শট। আর তাতে নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের ছিটকে যাওয়া আর নরওয়ের ইতিহাস গড়া।
অথচ চিত্রটা ভিন্ন হতে পারতো। পুরো ম্যাচে অজস্র সুযোগ পেয়েছে ব্রাজিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি। ম্যাচ জুড়ে হতাশাজনক সব মিস করেছে ভিনি, ক্যাসেমিরো, গিমারেসরা। যা আনচেলত্তির এই ব্রাজিলের সাথে বেমানান।
যোগ করা সময়ে পেনাল্টি পেয়ে নেইমার গোল করেন। কিন্তু তাতে ফলাফলে প্রভাব পড়েনি। বরং ব্রাজিলের পাওয়া দুটি পেনাল্টি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভালো ফুটবল খেলেও ফিনিশিংয়ে দুর্বলতায় হেরেছে ব্রাজিল। আর নরওয়ের জিতেছে, তাদের একজন হালান্ড আছে বলে।