সেমিফাইনাল পর্ব শেষ। এবার পুরো বিশ্বের চোখ আগামী রোববার রাতের ফাইনালে। যেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন।
সবাই যখন শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের অপেক্ষায়, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো পড়ে আছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল নিয়ে। দ্য টেলিগ্রাফ তো আরও এককাঠি সরেস। ওই সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা কোন কৌশল অবলম্বন করে জিতেছে, সেটা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টেলিগ্রাফ।
‘আর্জেন্টিনার ৩১ নোংরা কৌশল’- শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে মিনিট ধরে ধরে ম্যাচের ‘বিতর্কিত’ ঘটনাগুলো তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
টেলিগ্রাফের দাবি (প্রতিবেদন) অনুসারে, নিচে সেই ৩১টি ঘটনা তুলে ধরা হলো-
১ মিনিট: অ্যান্ডারসনের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে ইচ্ছাকৃতভাবে পা রাখেন মাকআলিস্তার।
২ মিনিট: বেলিংহামকে ধাক্কা দেন পারেদেস।
৬ মিনিট: সিমিওনে পেছন থেকে অ্যান্ডারসনের পায়ে আঘাত করেন।
১১ মিনিট: এলিয়টকে ফাউল করেও শাস্তি পাননি এনসো ফের্নান্দেস।
১১ মিনিট: রজার্সকে ইচ্ছাকৃত ফাউল করা হয়।
১৩ মিনিট: পিকফোর্ডের দিকে লাথি মারার মতো আচরণ করেন সিমেওনে।
১৫ মিনিট: পারেদেসের চ্যালেঞ্জে পড়ে যান বেলিংহাম। পরে বেলিংহামকে অপমানজনক মন্তব্যও করা হয় বলে অভিযোগ আছে।
১৬ মিনিট: গর্ডনকে ফেলে দেওয়ার পর সিমিওনে তার মাথায় অহংকারী ভঙ্গিতে হাত বুলিয়ে দেন।
২৪ মিনিট: জর্ডান পিকফোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেওয়ার জন্য রেফারি সিমেওনেকে সতর্ক করেন। তবে কর্নারের সময় আবারও একই কাজ করে ফাউল করেন সিমেওনে।
২৮ মিনিট: জেমসকে ফাউল করেন মাকআলিস্তার।
৩১ মিনিট: বেলিংহামকে ফাউল করেন এনসো ফের্নান্দেস।
৩৩ মিনিট: গুয়েহি ও সিমিওনের লড়াইয়ে গুয়েহি জয়ী হন। এরপর সিমিওনে মাথা দিয়ে ফাউল করার চেষ্টা করেন।
৩৪ মিনিট: পেছন থেকে বেলিংহামকে ধাক্কা দেন মলিনা।
৩৬ মিনিট: মেসিকে ফেলে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন। পড়ে যাওয়ার সময় মেসি স্পেন্সকে ছোট একটি লাথি দেন।
৩৭ মিনিট: মেসিকে ফাউল করার কারণে অ্যান্ডারসনকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানান মাকআলিস্তার ও পারেদেস।
৪১ মিনিট: রজার্সকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস।
৪৫ মিনিট: জেমস দ্রুত থ্রো-ইন নিতে গেলে আর্জেন্টিনার বেঞ্চ থেকে মাঠে একটি বল ছুড়ে দেওয়া হয়।
৪৫+২ মিনিট: অ্যান্ডারসনের দিকে পা উঁচিয়ে চ্যালেঞ্জ করেন পারেদেস।
হাফটাইম: মেসি ও এনসো ফের্নান্দেস রেফারিকে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ করেন।
৪৮ মিনিট: মেসি বেলিংহামকে মাঠের বাইরে ঠেলে দেন।
৫১ মিনিট: বেলিংহামকে ফেলে দেওয়ায় রোমেরো হলুদ কার্ড দেখেন।
৫৩ মিনিট: সিমিওনে স্পেন্সের মুখে আঘাত করেন, কিন্তু কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।
৫৮ মিনিট: পিকফোর্ড বল ধরতে গেলে কুটি রোমেরো মাথা নিচু না করে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
৭৩ মিনিট: মেসি স্পেন্সকে ধাক্কা দেন।
৮৫ মিনিট: পড়ে থাকা পিকফোর্ডের সামনে গিয়ে গোল উদযাপন করেন কুটি রোমেরো।
৮৮ মিনিট: স্টোনস মাথায় আঘাত পান এবং এ নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করেন।
৯০+২ মিনিট: বেলিংহামের সঙ্গে উল্টাপাল্টা কথা বলেন মন্তিয়েল।
৯০+৭ মিনিট: এমিলিয়ানো মার্তিনেস সময় নষ্ট করেন এবং এসময় তাকে হাসতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে: আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত উদযাপনের প্রতিক্রিয়া দেখান ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা।
উল্লেখ্য, মিনিট ধরে উল্লিখিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিযোগ দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুসারে করা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে যেগুলোকে ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, এসব ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে ফুটবল মহলে ভিন্নমত আছে।