বিশ্বকাপে রেকর্ড অর্থ পুরস্কার, লাভবান বাংলাদেশও

বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ৪৮ দল খেললেও, বাছাই পর্বে অংশ নেয় পৃথিবীর সব দেশ। এ আয়োজন থেকে উপার্জিত অর্থের ভাগ পায় বাংলাদেশও। এবার অর্থ পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়েছে ফিফা। গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া দলগুলো পেয়েছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ডলার। আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন।

১৯৩০ সাল, প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ১৩ দল। এরপর ১৬, ২৪, ৩২। এভাবে পেরিয়েছে ২২টি বিশ্বকাপ। এবার ২৩তম আসরে এসে দল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৮, বাছাই পর্বে অংশ নেয় পৃথিবীর সব দেশই। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ নামটা এমনি এমনি মেলেনি।

বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যখন দলের সংখ্যা বাড়ানো হয় তখন অন্যান্য দলগুলোও উৎসাহিত হবে এই ভেবে যে–আমারও হয়তো সুযোগ রয়েছে। এশিয়া কিংবা আফ্রিকার দিকে দেখলে দেখা যাবে। দলের সংখ্যা যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু কোয়ালিফাই করার জন্য প্রতিযোগিতাটাও বাড়ছে।’

যেমন বড় শো, প্রাইজ মানিও আকাশ ছোঁয়া। এবার সব মিলিয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গেল আসরের চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি। লভ্যাংশ থেকে ফিফা সব দেশকেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে। গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য বাংলাদেশও বিশ্বকাপ শেষে পাবে বড় অঙ্কের টাকা। 

জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে অর্থ আয় করবে, সেটি বাংলাদেশসহ সারা পৃথীবির যতগুলো মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে তারাও পাবে। সুতরাং ফিফা যে আয় করে তার মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে হেল্প করার জন্য।’

ট্রেনিং ক্যাম্প আর যাতায়াতদের জন্য আড়াই মিলিয়ন ডলার করে পেয়েছে প্রতিটি দল। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়া ১৬ দল ১০ মিলিয়ন করে পেয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়া দলগুলোর জন্য ১২ মিলিয়ন করে। আর রাউন্ড অফ সিক্সটিনে যাত্রা থামা দলগুলো পেয়েছে ১৬ মিলিয়ন করে।

কোয়ার্টার থেকে ছিটকে যাওয়া চার দলের ঝুলিতে গেছে ২০ মিলিয়ন করে। চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২৭ আর তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২৯ মিলিয়ন। রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন আর চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার।

অর্থ পুরস্কারের দিক থেকে যেমন রেকর্ড গড়েছে ফিফা, গোলের রেকর্ডও হয়েছে এবারের আসরে। এখন পর্যন্ত মোট ২৯৭ গোল। সর্বোচ্চ ৮টি করে মেসি আর এমবাপের।

আসরের সেরা ফুটবলের হওয়ার দৌড়েও ঘুরে ফিরে তাদেরই নাম। রোববার রাতের ফাইনাল শেষে মিলবে সব জবাব।