ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ডিফেন্ডার রবের্তো কার্লোস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন- সম্প্রতি এমন দাবি করে তুরস্কের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এমন খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই খবরে কার্লোসের কোনো মন্তব্য নেওয়া হয়নি।
অবশেষে ইসলাম ধর্ম নিয়ে চলমান গুঞ্জন প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এ তারকা। নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা পুরোপুরি অসত্য ও ভিত্তিহীন।
গুঞ্জনের সূত্রপাত তুরস্ক থেকে। হাবেরলারসহ একাধিক তুর্কি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় চার সপ্তাহ আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন কার্লোস। সেই প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কালিমা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা।
এই খবরের পাশাপাশি কার্লোসের বিয়ের ছবিও ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। সেখানে দেখা যায়, ইসলাম ধর্মের রীতি অনুসারে বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে কার্লোসের। এতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
তবে এই খবরকে পুরোপুরি অসত্য হিসেবে দাবি করেছেন কার্লোস। সৌদি আরবের দৈনিক পত্রিকা ওকাজের সঙ্গে আলাপকালে কার্লোস বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাটা সত্যিই চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে গুঞ্জন চারপাশে ঘুরছে, তা সত্য নয়।’
পাশাপাশি বিয়ের সেই ভাইরাল ছবি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি। কার্লোসের স্ত্রী সোহাইলা এল তাহিরি মূলত স্প্যানিশ-মরোক্কান বংশোদ্ভূত এবং মুসলিম। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী এ লেফটব্যাক জানিয়েছেন, পারিবারিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই একাধিক রীতিতে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে কার্লোস বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তাঁর মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’
স্ত্রীর ধর্মের সম্মানার্থে আয়োজিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠানই অনেকের মনে সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি।