লা লিগায় আবারও বড় ধাক্কা খেয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। মেত্রোপলিতানোতে গতকাল রোববারের মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকোর কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে জোসে মরিনিওর শিষ্যরা। এ হারে পয়েন্ট টেবিলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে রেয়াল মাদ্রিদ।
লিগের ৭ ম্যাচ শেষে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে লস ব্লাঙ্কোস। সমান ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর ৭ ম্যাচের সবগুলোতে জিতে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বার্সা।
এদিকে গতকাল আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে পুরো দায় রেফারির ওপর চাপিয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ। দলটির কোচ মরিনিও দাবি করেন, ম্যাচে আতলেতিকোর দুটি নিশ্চিত লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল। রেফারি মাদ্রিদ ডার্বির চাপ সামলাতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে এক বিবৃতিতে রেয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, অত্যন্ত বাজে রেফারিংয়ের কারণেই হেরেছে রেয়াল মাদ্রিদ।
গতকালের ম্যাচে আতলেতিকো প্রথম গোলটি পায় পেনাল্টিতে। দ্বিতীয়ার্ধে জিউলিয়ানো সিমেওনেকে বক্সের ভেতর ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন ডিন হুইসেন। ওই পেনাল্টিতে ৫৩ মিনিটে আতলেতিকোকে এগিয়ে (১-০) দেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। ৬ মিনিট পর সিমেওনের দারুণ এক পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথান ডেভিড। ম্যাচের শেষ দিকে আন্তোনিও রুডিগার একটি গোল ফিরিয়ে (২-১) দিলেও হার এড়াতে পারেনি রেয়াল।
তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুটি ঘটনা তুলে ধরেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ মরিনিও। তিনি দাবি করেন, জুড বেলিংহামকে ফাউলের এক ঘটনায় ক্রিস্তিয়ান রোমেরো শুধু হলুদ কার্ড দেখলেও, সেটা লাল কার্ড পাওয়া উচিত ছিল। আরেক ঘটনায় ভালভার্দেকে ভয়ংকর ট্যাকল করলেও কোনো শাস্তি পাননি অ্যাটলেটিকোর কাং-ইন লি। এ দুটি ঘটনার ছবি প্রিন্ট করে সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে যান মরিনিও।
ছবিগুলো সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি রেফারি মিগেল আনহেল অর্তিজ আরিয়াস ও ভিএআরের দায়িত্বে থাকা দানিয়েল ত্রুহিয়ো সুয়ারেজের তীব্র সমালোচনা করেন। ছবি দুটি হাতে তুলে ধরে মরিনিও বলেন, ‘ম্যাচের আসল গল্প এখানেই। এ দুটি পরিষ্কার লাল কার্ড। পরে আমাদের যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে— ১১ জন বনাম ১০ জন— সেটি যদি ৫০ মিনিট ধরে ১১ বনাম ৯ হতো, তাহলে কী হতে পারত, সেটা সহজেই কল্পনা করা যায়।’
ম্যাচে রেফারি নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মরিনিও, ‘এটা রেফারি কমিটির (সিটিএ) বিষয়। সবকিছুই খুব অদ্ভুত। অর্তিজ আরিয়াসের বয়স ৪১, অথচ তাঁর কোনো আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নেই। আমি জানি না কেন তাঁকে এই ম্যাচের রেফারি করা হলো। লোকটি এখানে এসে চাপ সামলাতে পারেননি।’
ভিএআর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ, ‘কিন্তু ভিএআরের তো কোনো চাপ থাকার কথা নয়। লাস রোজাসে (স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তর) তো কোনো চাপ নেই। অথবা হয়তো আছে, আমরা জানি না। একদিকে এমন একজন রেফারি, যিনি শুধু ছোটখাটো ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, অন্যদিকে অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভিএআর। সিটিএকে অভিনন্দন।’
এক বিবৃতিতে রেয়াল মাদ্রিদও প্রায় একই কথা উল্লেখ করেছে। ক্লাবটির ভাষ্য, বাজে রেফারিংয়ের কারণেই মাদ্রিদ ডার্বিতে হেরেছে রেয়ার। বিবৃতিতে রেয়াল লিখেছে, ‘মেত্রোপলিতানোতে রেফারি অর্তিজ আরিয়াসের অত্যন্ত বাজে রেফারিংয়ের কারণে ডার্বিতে হেরেছে রেয়াল মাদ্রিদ।’ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা কয়, প্রথমার্ধে বেলিংহামের হাঁটুতে পা দেওয়ার পরও কুটি রোমেরোকে লাল কার্ড দেখাননি রেফারি। এমনকি ঘটনাটি দেখতে ভিএআর মনিটরেও গিয়েছিলেন তিনি।
বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘একইভাবে ভালভার্দের বাঁ পায়ের গোড়ালিতে পা দেওয়ার পর কাং-ইন লিকেও লাল কার্ড দেখাননি রেফারি। এই দুই সিদ্ধান্ত ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ফল আতলেতিকোর পক্ষে চলে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও শুধু এই ম্যাচ নয়, বরং সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে রেয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও আতলেতিকোর ম্যাচে ঘটে যাওয়া আরও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর ইঙ্গিত, এসব সিদ্ধান্তে রেয়ালের প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা পেয়েছে।
মরিনিও বলেন, ‘রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে আতলেতিকো যে পেনাল্টিটা পেয়েছিল, সেটা হাস্যকর। বার্সেলোনার পাওয়া পেনাল্টিটিও হাস্যকর। বিলবাওয়ের বিপক্ষে বার্সার ম্যাচে লাল কার্ড না দেখানোর ঘটনাও একই রকম। এতগুলো ঘটনা একসঙ্গে ঘটছে…।’
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে রেয়াল মাদ্রিদ কোচ বলেন, ‘ভেবেছিলাম, ২০১৩ সালে যে লিগ ছেড়ে গিয়েছিলাম, ফিরে এসে তার চেয়ে ভিন্ন একটা লিগ দেখব। কিন্তু মানুষ আমাকে বলেছিল, তা হবে না। তার কারণও তারা ব্যাখ্যা করেছিল। তবুও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’