সপ্তাহের শুরু লা লিগায় ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেই ঘটনায় ৪ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। গতকাল বুধবার স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে চলতি মাসে বার্সার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে খেলতে পারবেন না তিনি।
তা ভিনিসিয়ুসকে কেন এত বড় শাস্তি দিল লা লিগার কমিটি? গত শনিবারের ওই ম্যাচে নাথান সালিবার চুল টেনে ধরেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ওই ঘটনার জন্য তাঁকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। আর রেফারির লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোয় আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন তিনি।
এমনিতেও চলতি মৌসুমটা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না ভিনিসিয়ুসের। ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি গোল করেছেন তিনি। এ কারণে ভিয়ারেয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ। তবে ৫২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ৭৩ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। সেদিন ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
তবে এবার চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কপালে জুটল ভিনিসিয়ুসের। সেই নিষেধাজ্ঞার সংবাদও পেয়েছেন গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমার বিপক্ষে মাঠে নামার কিছু সময় আগে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে লা লিগায় সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তান্দার ও ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা পেলেও সেটি ঘোষণার সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভিনিসিয়ুস। একইসঙ্গে ব্রাজিলিয়ান তারকা দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেননি তিনি। এ প্রসঙ্গে ভিনিসিয়ুস বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার জন্য তাদের হাতে সারা দিন সময় ছিল। অথচ আমরা যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছালাম, ঠিক তখনই আমাকে জানানো হলো, লিগের পরের ৪ ম্যাচে আমি খেলতে পারব না।’
ঘটনাটি নিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ভিনিসিয়ুস আরও বলেন, ‘চুল টেনে ধরার বিষয়টি নিয়ে আমাদের কখনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। লা লিগা ও রেফারিদের সংগঠনের কেউ নিয়মকানুন বোঝাতে আসেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে কখনো কিছু বলেননি। আমার ক্ষেত্রে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, ব্যস—এটাই। আমি কখনো অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করিনি। অন্যরা আমাকে অনেক আঘাত করে, অথচ শেষ পর্যন্ত কার্ড দেখতে হয় আমাকেই।’
শুধু ভিনিসিয়ুস নয়, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিও। তিনি বলেছেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রশ্ন হলো, তারা ঠিক এই সময়েই কেন শাস্তির ঘোষণা দিল? আপনি যদি এই প্রশ্ন করেন, তার মানে আপনি মনে করছেন, এটি ভিনিসিয়ুসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তা না হলে আমাকে এই প্রশ্ন করতেন না।’
মরিনিও যোগ করেন, ‘তাদের জিজ্ঞেস করা উচিত, আজ সকালে কিংবা আগামীকাল সকালে কেন এই ঘোষণা দেওয়া হলো না? রেয়াল মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে কেন এটি ঘোষণা করা হলো? ভুলে গেলে চলবে না, রেয়াল মাদ্রিদ স্পেনেরই একটি ক্লাব।’
উল্লেখ্য, ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞা শুধুই স্পেনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার জন্য প্রযোজ্য। চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে কোনো বাধা নেই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের। সে কারণে লা লিগা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পরও গতকাল রোমার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পেরেছেন ভিনিসিয়ুস।