রোনালদো হঠাৎ কেন অবসর নিলেন? ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল

দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে গতকাল বৃহস্পতিবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অবসরের সিদ্ধান্ত জানান ৪১ বছর বয়সী এ মহাতারকা।

তবে রোনালদো যে জাতীয় দল ছাড়তে যাচ্ছেন, এই সিদ্ধান্তের খবর পর্তুগাল দলের অন্দরমহলে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিল না। বরং রোনালদোর অবসরের পর পর্দার আড়ালের কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কের তিক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি অবসরের ঘোষণা দেওয়ার আগে কোচের তিনটি ফোনকলও উপেক্ষা করেছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

জর্জ জেসুসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘আররিয়াদিয়াহ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোনালদোর সঙ্গে জেসুসের এই দ্বন্দ্ব হঠাৎ করেই শুরু হয়নি। কয়েক দফা বৈঠকের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, পর্তুগাল দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছিলেন জেসুস। সে কারণে রোনালদোকে নতুন ভূমিকার কথা জানান পর্তুগিজ কোচ। কোচের পরিকল্পনা অনুসারে, রোনালদো খেলবেন বদলি হিসেবে। কিন্তু রোনালদো নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। কোনো অবস্থাতেই বদলি হিসেবে খেলতে রাজি ছিলেন না।

ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, নিজের চেনা ভূমিকার বাইরে অন্য কোনো দায়িত্ব নিতে রোনালদোর আগ্রহ ছিল না। জেসুসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো খেলোয়াড়ের বদলি হিসেবে মাঠে নামবেন না। অন্যদিকে কোচের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং দলের কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে অভিজ্ঞ এই তারকার ভূমিকা বদলাতে পারে।

এদিকে পর্তুগালের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে গনসালো রামোসকে প্রাধান্য দিতে থাকেন জেসুস। এটি যখন রোনালদো বুঝতে পারেন, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে একাদশে নিজের জায়গা ধরে রাখা রোনালদোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে রোনালদোর। এমনকি কিছু ম্যাচে কোচের পরিকল্পনার বাইরেও চলে যান পর্তুগিজ মহাতারকা।

নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে সেটারই প্রমাণ মিলেছে। রোনালদোকে একাদশে রাখেননি জেসুস, এমনকি বদলি হিসেবেও মাঠে নামাননি। এরই জেরে পরের দিন দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি রোনালদো। এরপর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি এবং কোচ জেসুসের সঙ্গে বৈঠক হলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। উল্টো ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান রোনালদো।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে একটি বড় বিবৃতিও দেন তিনি। সেখানে দাবি করেন, কোচ জেসুস তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সেই বিবৃতিতে জাতীয় দলে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও গতকাল পাকাপাকিভাবে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান রোনালদো।

রোনালদো যে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা সরাসরি কোচ জেসুসকেও জানাননি। পর্তুগাল কোচের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেসুস তিনবার ফোন করলেও সেটি রিসিভ করেননি রোনালদো। তাঁর এই আচরণ দেখেই জেসুস আঁচ করতে পেরেছিলেন, সামনে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন রোনালদো।

এর আগের ঘটনাগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছিল, চলমান সংকটের মধ্যে রোনালদোর দলে ফেরা সহজ হবে না। যদিও তাঁকে আবার দলে ফেরাতে চেয়েছিলেন জেসুস। তবে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্তের ব্যাপারে অনড় ছিলেন কোচ। আর এই শর্তগুলোই দুজনের দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগেও রোনালদোর সঙ্গে কোচের সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে সংকট কাটিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফেরার পথ খোলা ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিলেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।