ট্রাম্পের তালে নাচছে সবাই

কোমরে হাত, বাতাসে হাত ছোঁড়া, কখনো-বা হাত দিয়ে গলফ ক্লাব সুইংয়ের ভঙ্গি…যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাচটা বিখ্যাত হতে সময় লাগেনি। টিকটকে-ইনস্টাগ্রাম রিলে ভাইরাল হয়ে গেছে দ্রুতই।

এই নাচই এখন খেলা দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নানা খেলার মাঠে-কোর্টে। আমেরিকান ফুটবল হোক বা বাকি বিশ্বে ফুটবল নামে পরিচিত আমেরিকান ‘সকার’ – সব জায়গায় ট্রাম্পের সেই নাচ নকল করছেন অ্যাথলেটরা। এমনকি ট্রাম্পের সামনেই হয়েছে তাঁর নাচের উদ্‌যাপন!

তিন দিন আগে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জন জোনস যখন ইউএফসি থ্রি জিরো নাইনে হেভিওয়েট শিরোপা জিতে ‘ট্রাম্প ডান্স’ দিয়েছেন, দর্শকসারিতে ইলন মাস্কসহ তাঁর মন্ত্রীসভার জন্য প্রস্তাবিত আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বসে ছিলেন স্বয়ং ট্রাম্প!

জন জোনসের আগে-পরে আরও অনেকেই অবশ্য ট্রাম্প ডান্স দেখিয়েছেন। নির্বাচনে ট্রাম্প জেতার কয়েকদিন পরই আমেরিকান ফুটবলার নিক বোসা তাঁর দল স্যান ফ্র্যান্সিসকো ফোর্টিনাইনারস সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে ‘ট্রাম্প ডান্স’ নেচেছেন। নির্বাচনের অনেক আগে অবশ্য একবার ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া বাক্য লেখা টুপি পরে টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে এনএফএল কর্তৃপক্ষের হাতে জরিমানার শাস্তি পেয়েছিলেন এই বোসা।

তবে ট্রাম্পের জয়ের পর বোসার দেখাদেখি এনএফএলে ‘ট্রাম্প ডান্স’ দেখিয়েছেন ব্রক বাওয়ার্স, ক্যালভিন রিডলি ও জ্যাডারিয়াস স্মিথ। ভাইরাল ট্রাম্প ডান্সের দেখা মিলেছে কলেজ ফুটবলেও।

আর প্রথাগত ফুটবল, আমেরিকানরা যেটিকে সকার বলে, সেখানে গতকাল ট্রাম্প ডান্সের প্রদর্শনী রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও এসি মিলানের ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক। কনক্যাকাফ নেশনস লিগে জ্যামাইকার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-২ গোলে জয়ের পথে দলের প্রথম গোলটি করার পর উদ্‌যাপনে ‘ট্রাম্প ডান্স’কেই মাঠে নিয়ে এসেছেন পুলিসিক।

শুধু কী যুক্তরাষ্ট্র? ব্রিটিশ গলফার চার্লি হাল এলপিজিএ ট্যুরে ‘ট্রাম্প ডান্সে’র প্রদর্শনী রেখেছেন। ট্রাম্প ডান্স জ্বর ছুঁয়েছে ইংলিশ ফুটবলকেও, সেখানে তৃতীয় স্তর ‘ইংলিশ ফুটবল লিগ ওয়ান’-এ গত শনিবার ক্যামব্রিজ ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পথে দলের গোলের পর ট্রাম্পের নাচে উদ্‌যাপন করেছেন বার্নসলির ফুটবলাররা।

অ্যাথলেটরা কেন এভাবে ট্রাম্প ডান্সে মেতেছেন, তার ব্যাখ্যা খুঁজেছে বিবিসি। বেশিরভাগ অ্যাথলেটই শুধুই ভাইরাল হয়ে যাওয়া টিকটক-ইনস্টাগ্রাম রিলের এই ‘ট্রেন্ডে’র জন্যই নাচটাকে উদ্‌যাপনের অংশ বানিয়েছেন। তবে দু-একজনের ক্ষেত্রে যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনও এই নাচের কারণ নয়, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

ট্রাম্পের উপস্থিতিতে যিনি ‘ট্রাম্প ডান্স’ দেখিয়েছেন, সেই জন জোনসই যেমন বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আজ এখানে উপস্থিত থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। আমার ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ (নাচ) দেখে কেমন লেগেছে আপনাদের?’ ট্রাম্প নিজে আবার এই অংশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তাঁর একাউন্টে পোস্ট করেছেন।  

ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক আবার উল্টো, তাঁর নাচের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা নেই বলে বারেবারে মনে করিয়ে দিয়েছেন। ‘এনএফএলে দেখলাম সবাই এটা করছে, জন জোনসকে করতে দেখলাম। আমরা মজা করতেই করেছি এটা। অবশ্যই এটার নামই ‘ট্রাম্প ডান্স’ তবে আমরা শুধু এটিকে অন্য সবাই করছে এমন একটি নাচ হিসেবেই দেখেছি’ – গতকাল নাচের ব্যাখ্যায় বলেছেন পুলিসিক।

এদিকে নির্বাচনের পক্ষে ট্রাম্পের নাম লেখা টুপি পরে সাক্ষাৎকারের জন্য নিক বোসাকে জরিমানা করলেও এনএফএল কর্তৃপক্ষ এবার জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্প ডান্সের জন্য তারা কাউকে কোনো শাস্তি দেবে না। হিসেবটা সহজ – নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের নাম লেখা টুপি পরে সাক্ষাৎকার দেওয়া ছিল সমর্থনের প্রদর্শন, আর এখন ট্রাম্পের ভাইরাল হয়ে যাওয়া নাচের প্রদর্শনী শুধুই বিনোদন।