লাভের আশায় নিজেদের টিকিট বেশি দামে বিক্রি করে শাস্তির মুখে খেলোয়াড় ও স্টাফ

আমেরিকায় সুপার বৌলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। জনপ্রিয় এ প্রতিযোগিতার টিকিট পাওয়াটা সোনার হরিণের মতো। এ প্রতিযোগিতা সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখতে হাজার হাজার ডলার খরচ করতেও কার্পণ্য বোধ করেন না দর্শকেরা। অনেক দর্শককেই পছন্দের ম্যাচের টিকিট পেতে নির্ধারিত দামের অনেক বেশি খরচ করতে হয়।

তবে সুপার বৌলে অংশ নেওয়া এনএফল খেলোয়াড়রা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রত্যেক খেলোয়াড় টিকিটের গায়ে লেখা নির্ধারিত মূল্যেই দুটি করে টিকিট কেনার সুযোগ পান। অনেক খেলোয়াড় লাভের আশায় সে টিকিট আবার বেশি দামে বিক্রি করেন। যা লীগ নীতিমালার সরাসলি লঙ্ঘন।

এমন অভিযোগে এনএফএলের প্রায় ১০০ খেলোয়াড় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের আরও ২৪ জন কর্মকর্তাও জরিমানার মুখোমুখি হচ্ছেন। সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে কোনো খেলোয়াড় বা স্টাফের নাম প্রকাশ করেনি বার্তা সংস্থাটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব খেলোয়াড় বেশি দামে টিকিট বিক্রি করেছেন, তাদের টিকিটের মূল দামের দেড় গুণ জরিমানা করা হবে। আর ক্লাব স্টাফদের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ হবে দ্বিগুণ।

সুপার বৌলের নিয়ম বলছে, এনএফএল ম্যাচের জন্য ক্লাব স্টাফসহ খেলোয়াড়রা যে টিকিট কিনবেন, সেটা টিকিটের নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে কিংবা নিজের কেনা দামের বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন না।

সুপার বৌলের টিকিটের চাহিদা সম্পর্কে একটা উদাহরণ দিয়েছে রয়টার্স। চলতি বছরের সুপার বৌলে ক্যানসাস সিটি চিফস এবং ফিলাডেলফিয়া ঈগলের ম্যাচে সবচেয়ে দামি টিকিটের নির্ধারিত মূল্য ছিল প্রায় ৭৫০০ ইউএস ডলার। কিন্তু রিসেল মার্কেটে সেই টিকিটের দাম উঠেছিল ৫৬৭৭০ ডলার পর্যন্ত।

রয়টার্স জানিয়েছে, লিগের কমপ্লায়েন্স প্রধান ক্লাবগুলোকে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। সেখানে বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টির তদন্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘তদন্তে দেখা গেছে, ক্লাবের স্টাফ ও খেলোয়াড়রা তাদের টিকিট নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার জন্য ‘বান্ডলারে’র (যারা টিকিট কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করে) কাছে বিক্রি করেছে। যারা টিকিট বান্ডল করতে কাজ করেছে, বা ওই কার্যকলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’