গত সোমবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বন্দুকধারীর গুলিতে এক বাংলাদেশি অভিবাসী পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত দিদারুল ইসলাম নিউ ইয়র্ক পুলিশের কর্মকর্তা ও সে বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, হামলাকারী একটি নোট রেখে গেছেন। যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে ওই বিল্ডিংয়ে থাকা ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) সদরদপ্তরে হামলা করতে চেয়েছিলেন ২৭ বছর বয়সী শেইন টামুরা। কিন্তু বিল্ডিংয়ের ভুল অংশে চলে যান।
মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেছেন, টামুরা ‘সিটিই’ রোগে ভুগছিলেন। মাথায় বারবার আঘাতের কারণে এই রোগ হয়। আমেরিকান ফুটবল বা রাগবি জাতীয় খেলাতে এ ধরনের আঘাত খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নিজের অবস্থার জন্য এনএফএলকে দায়ী করে হামলা করতে চাওয়া টামুরা ভুল লিফটে উঠে গিয়েছিলেন বলে জানান মেয়র অ্যাডামস।
চারজনকে হত্যা করে পরে নিজে আত্মহত্যা করা টামুরা কিশোর বয়সে আমেরিকান ফুটবল খেলতেন। হাই স্কুলে ফুটবল খেললেও কখনো এনএফএল খেলেননি। বিল্ডিংয়ের ভুল অংশে চলে যাওয়া অস্ত্রধারী টামুরাকে আটকাতে গিয়ে প্রাণ হারান বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দিদারুল ইসলাম।আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোনের কর্মী ওয়েলসি লেপ্যাটনারও প্রাণ হারিয়েছেন।
এখনো পর্যন্ত নিহত বাকি দুই পুরুষের পরিচয় জানানো হয়নি। এর বাইরে এনএফএল এর কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মেয়র এরিক অ্যাডামস সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে বলেছেন, ‘ওর কাছে একটা নোট পাওয়া গেছে। নোটে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার সিটিই ছিল, যারা কন্টাক্ট স্পোর্টসে অংশ নেয়, তাদের মধ্যে খুব পরিচিত ব্রেইন ইনজুরি। নিজের এই অবস্থার জন্য এনএফএলকে দায়ী করেছে সে।’
টামুরার নোটে নাকি লেখা ছিল, ‘প্লিজ আমার মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখবেন।’ নোটে সেরা নিউরোসায়েন্টিস্টদের নাম লেখা ছিল। নোটে টামুরা নাকি ‘দুঃখিত’ও লিখেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বড় হওয়া টামুরার সাবেক সতীর্থরা এ ঘটনায় বিস্মিত। এক কোচ বলেছেন, সাবেক রানিং ব্যাক ‘দারুণ খেলোয়াড়’ ছিলেন। শুধু মাত্র হামলার জন্য লাস ভেগাস থেকে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিল টামুরা। হামলায় অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিল্ডিংয়ে ঢুকেই গুলি ছুড়তে থাকা টামুরা একটি লিফটে উঠে ৩৩ তলায় উঠে গুলি চালানো শুরু করেন। মেয়র অ্যাডামস বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, এনএফএল এর সদর দপ্তরে না গিয়ে বিল্ডিংয়ের মালিকানা প্রতিষ্ঠান রুডিন ম্যানেজমেন্টের অফিসে চলে যান টামুরা।