ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম থেকে মাত্র দুই ধাপ দূরে ছিলেন নোভাক জোকোভিচ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলে নারী-পুরুষ মিলে টেনিস ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক হওয়ার সুযোগ ছিল ৩৬ বছর বয়সী সার্বিয়ান তারকার। কিন্তু শিরোপা জেতা তো পরের কথা, ফাইনালেই উঠতে পারেননি জোকোভিচ। নিজের চেয়ে ১৪ বছরের ছোট ইয়ানিক সিনারের কাছে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনালে হেরেছেন টেনিসের শীর্ষ বাছাই।
শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে টানা ৩৩ ম্যাচ পরে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেলেন জোকোভিচ। দিনটা যে সার্বিয়ান তারকার ছিল না, সেটার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল প্রথম সেট থেকেই। ইতালিয়ান টেনিস তারকা সিনারের বিপক্ষে প্রথম দুই সেটে ৬-১ ও ৬-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন জোকো। তবুও রেকর্ড ১০বার অস্ট্রেলিয়া ওপেন জেতা জোকোভিচের পক্ষে বাজি ধরার লোকের কমতি ছিল না।
ক্যারিয়ারে এর আগে ৮ বার প্রথম দুই সেট হেরেও তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন জোকোভিচ। এদিনও তেমনটার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তৃতীয় সেটে সিনারকে হারান ৭-৬ (৮-৬) গেমে। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হয়নি। চতুর্থ সেটে দুর্দান্ত ভাবে ফিরে আসেন সিনার। শেষ সেটটি ৬-৩ ব্যবধানে জিতে প্রথম ইতালিয়ান টেনিস তারকা হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে ওঠেন সিনার।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এর আগে ২০১৮ সালে ২২ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার হেইন চুংয়ের কাছে হেরেছিলেন জোকোভোচ। এরপর পেরিয়ে গেছে ২১৯৫ দিন। মেলবোর্ন পার্কে খেলেছেন ৩৩ ম্যাচ। সবগুলোতেই জয়ী সার্বিয়ান টেনিস কিংবদন্তী। এবার আর পারলনে না। সিনারের বিপক্ষে অঘটনের শিকার হলেন বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে।
এর আগে ২০০৮ সালে ২০ বছর ২০৫ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার কীর্তি গড়েছিলেন জোকোভিচ। সে ঘটনার পর থেকে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ফাইনালে উঠলেন সিনার (২২ বছর ১৬৩ দিন)। জোকোভিচের সঙ্গে সর্বশেষ চার দেখায় তিনবারই জয়ের হাসি হাসলেন ইতালিয়ান টেনিস তারকা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে হারলেন জোকোভিচ। এর আগে ১০ বার সেমিফাইনাল খেলে দশবারই শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন সার্বিয়ান টেনিস তারকা। যা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের রেকর্ড।