টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়েদের এককে ফ্রেঞ্চ ফাইনালের শিরোপা জিতেছেন ইগা সিয়ানতেক। রোলাঁ গারোতে র্যাঙ্কিংয়ের ১২তম বাছাই ইতালিয়ান জেসমিন পাওলিনিকে পাত্তাই দেননি পোলিশ তারকা। সরাসরি ৬-২, ৬-১ সেটে জিতে ইতিহাসে তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতার কীর্তি গড়েছেন সিয়ানতেক।
এর আগে এ কীর্তি গড়েছিলেন আমেরিকান মনিক সেলেস (১৯৯০-১৯৯২) ও জাস্টিন হেনিন (২০০৫-০৭)। হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে মনিকার সেলেসার আরেকটা কীর্তির পাশে বসেছেন সিয়ানতেক। পাশাপাশি আমেরিকান দীর্ঘশ্বাসও জাগিয়েছেন মেয়েদের টেনিসের শীর্ষ বাছাই।
উন্মুক্ত যুগে মেয়েদের এককে প্রথম পাঁচ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের সবগুলোতেই শেষ হাসি হেসেছেন সিয়ানতেক। এর আগে এ কীর্তি ছিল কেবল মনিকা সেলেসার। কিন্তু ১৯৯৩ সালে হ্যামবার্গে সিটিজেনশিপ কাপের ম্যাচে মনিকাকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন এক ভক্ত। সে সময় সেলেসার বয়স ছিল সবে ১৯ বছর।
সেসময় মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেও ছিলেন সেলেসা। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই আটটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন। কিন্তু ভক্তের ছুরিকাঘাতে থমকে যায় সেলেসার ক্যারিয়ার। দুই বছর পর টেনিসে ফিরলেও আর স্বরূপে ফিরতে পারেননি সেলেসা। টেনিসে আমেরিকানদের এক আক্ষেপের নামই হয়ে থেকেছেন তিনি। সিয়ানতেকের কল্যাণে তিন দশক আগের স্মৃতি ফিরেছে রোলাঁ গারো তো।
আজকের ফাইনালে পাওলিনির কাছে প্রথমের দিকে পিছিয়ে পড়েছিলেন সিয়ানতেক। এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে পরের ১২ গেমের ১১টিতেই জেতেন ২৩ বছর বয়সী পোলিশ তারকা। এটি ফ্রেঞ্চ ওপেনে সিয়ানতেকের চতুর্থ শিরোপা। উন্মুক্ত যুগে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রোলাঁ গারোতে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন সিয়ানতেক। এছাড়া ২০২২ সালে ইউএস ওপেনও জিতেছিলেন তিনি। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে সিয়ানতেকের নামের পাশে এখন পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লাম।
আজ পাওলিনির বিপক্ষে অনায়াস জয়ের পর উচ্ছ্বসিত সিয়ানতেক বলেছেন, ‘এ জায়গাটা আমার ভীষণ পছন্দের। প্রতি বছর এখানে খেলতে মুখিয়ে থাকি।’
অন্যদিকে রানার্স আপ পাওলিনিও ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ সিয়ানতেকের প্রশংসা করেছেন। ম্যাচ শেষে পাওলিনি বলেছেন, ‘এখানে ওর প্রতিদ্বন্দিতা করা স্পোর্টসে কঠিন চ্যালেঞ্জ গুলোর একটি। গত ১৫ দিন তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে আজকের দিনটা ছিল সবচেয়ে কঠিন। এরপরেও নিজেকে নিয়ে আমি গর্বিত।’