গত বছর নোভাক জোকোভিচকে হারিয়েই নিজের প্রথম উইম্বলডন জিতেছিলেন। এবার আবার উইম্বলডনের ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেন জোকোভিচকেই। তা জোকোভিচকে উইম্বলডনে ফাইনালে দেখা তো নৈমিত্তিক ব্যাপারই হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে ফাইনালের আগে কখনো বিদায় নেননি সার্বিয়ান কিংবদন্তি। তবে আজ ফাইনালে যা দেখালেন আলকারাস, সেটা সম্ভবত জোকোভিচ এই চোখধাঁধানো ক্যারিয়ারে খুব কমই দেখেছেন।
কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে জোকোভিচের বিপক্ষে এমন দাপুটে শেষ কোন খেলোয়াড় খেলেছেন, সে এক গবেষণারই ব্যাপার বটে। শেষ সেটে শেষদিকেই যা লড়াই করেছেন, তবে ওই লড়াই-ই সার! শেষ পর্যন্ত জোকোভিচকে ৬-২, ৬-২, ৭-৬ গেইমে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় উইম্বলডন জিতে নিয়েছেন আলকারাস।
তাতে নিজের নাম তো ইতিহাসে লিখিয়েছেনই, উইম্বলডন বলতেই যাঁর নাম মাথায় আসে সেই সুইস কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের একটা রেকর্ডও বাঁচিয়ে দিয়েছেন আলকারাস। জোকোভিচ জিতলে ফেদেরারের সর্বোচ্চ ৮ উইম্বলডন জেতার রেকর্ডে ভাগ বসিয়ে দিতেন, আপাতত সেটা আর হচ্ছে না।
আর আলকারাসের কীর্তিটা কী? বলা যায়, মাত্র ২১ বছর বয়সেই কিংবদন্তিদের পাশে নাম লিখিয়ে ফেললেন আলকারাস। এ বছরের ফ্রেঞ্চ ওপেনের পর উইম্বলডনও জিতে ফেললেন আলকারাস, টেনিসের ওপেন যুগে একই বছরে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডন জেতার যে কীর্তি এর আগে ছিল শুধু পাঁচজনের। নামগুলো দেখুন, টেনিসের কিংবদন্তিদের সংক্ষিপ্ত তালিকাই মনে হবে – রড লেভার (১৯৬৯), বিয়র্ন বোর্গ (১৯৭৮-৮০), রাফায়েল নাদাল (২০০৮, ২০১০), রজার ফেদেরার (২০০৯), নোভাক জোকোভিচ (২০০২১) ও আলকারাস।
আরেকটা রেকর্ডেও ফেদেরারের পাশে বসেছেন আলকারাস। টানা দ্বিতীয় উইম্বলডন জেতায় ছোট্ট ক্যারিয়ারেই চারটি গ্র্যান্ড স্লাম হয়ে গেল স্প্যানিশ তরুণের। এবং সে পথে ফাইনালও খেলেছেন চারটিই, অর্থাৎ এখনো কোনো গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে হারের সঙ্গে পরিচয় হয়নি তাঁর। ওপেন যুগে ক্যারিয়ারের প্রথম চার বা তার বেশি গ্র্যান্ড স্লামে জয়ের রেকর্ড ছিল শুধু ফেদেরারেরই – সুইস কিংবদন্তি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম সাত গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালেই জিতেছিলেন।
আজ ফাইনালে জোকোভিচকে যেন ‘জোকোভিচ’ই মনে হয়নি! অবশ্য সেটার কারণ সহজেই বোঝা যায়। সার্বিয়ান কিংবদন্তির বয়স হয়ে গেছে ৩৭, তার চেয়েও বড় কথা – ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে খেলতেই না দেওয়া (কাসপার রুদকে ওয়াকওভার দিয়েছিলেন) হাঁটুর চোটে গত জুনে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে উইম্বলডনে খেলাই অনিশ্চিত ছিল তাঁর। তবু খেলেছেন, এবং ফাইনালেও উঠেছেন – যদিও সে পথে জোকোভিচকে বাধার মুখে ফেলার মতো প্রতিপক্ষই-বা কে ছিলেন, সে এক প্রশ্ন বটে। আজ যখন প্রবল বাধার মুখে পড়লেন, খেই হারিয়ে ফেললেন জোকোভিচ।
পুরো ম্যাচে মাত্র ১০টি গেইম জিতেছেন জোকো, গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালে এর চেয়ে বাজে হার ক্যারিয়ারে শুধু একবারই দেখেছেন – ২০২০ ফ্রেঞ্চ ওপেনে নাদালের কাছে, সেবার জিতেছিলেন মাত্র ৭টি গেইম।
আজ প্রথম দুই সেটেই জোকোভিচকে বিধ্বস্ত করে ফেলা আলকারাস তৃতীয় সেটে একটু মনোযোগ হয়তো হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিংবা শিরোপার খুব কাছে এসে হয়তো উত্তেজনা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। জোকোভিচের আবার প্রথম দুই সেটে হেরেও ফিরে আসার ঘটনা ভুরিভুরি বলে, তখনো জোকোভিচকে নিয়ে আশা দেখছিলেন তাঁর ভক্তরা। কিন্তু একেবারে গেইম পয়েন্টে তিনবার আলকারাসকে রুখে দিলেও শেষ পর্যন্ত অতটুকুই হয়ে থেকেছে আজ ম্যাচে জোকোর হাইলাইট।