অন্যান্য দিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও রান্নাঘরে রান্না করছিলেন হরিয়ানার রাজ্যস্তরের টেনিস তারকা রাধিকা ইয়াদব। হঠাৎ পেছন থেকে গুলি করেন তাঁর বাবা দীপক ইয়াদব। এর মধ্যে তিনটি গুলি লাগে রাধিকার পিঠে। গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়া ২৫ বছর বয়সী এ টেনিস তারকা পরে মারা যান।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দীপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ খুঁজে পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়ের টেনিস খেলা নিয়ে মানুষের কটূক্তির জেরে এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন দীপক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকদিন আগে একটি ম্যাচের সময় কাঁধে আঘাত পান রাধিকা। সে আঘাত প্রভাব ফেলে ২৫ বছর বয়সী এ টেনিস তারকার পারফরম্যান্সেও। কোর্টে সুবিধা করতে পারছিলেন না বলে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা চিন্তা করেন রাধিকা। এজন্য একটি টেনিস একাডেমি খোলেন হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসিন্দা রাধিকা।
পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের টেনিস একাডেমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পছন্দ হয়নি বাবার। মেয়ের টাকায় বেঁচে আছেন বলে মানুষজন ব্যঙ্গ করতেন দীপককে। সেকারণে একাডেমি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য রাধিকাকে চাপ দিতে থাকেন তাঁর বাবা।
মামলার এজহারে বলা হয়েছে, রাধিকা অ্যাকাডেমি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রায়ই মেয়ের ওপর প্রচণ্ড রেগে যেতেন দীপক। গত কয়েকদিনে এ ধরনের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের পরিমাণ আরও বেড়ে গেলে রাধিকাকে আবারও একাডেমি বন্ধের কথা বলেন দীপক। কিন্তু রাধিকা রাজি হননি।
অভিযুক্ত দীপক ইয়াদব পুলিশকে বলেছেন, ‘যখন আমি ওয়াজিরাবাদ গ্রামে দুধ আনতে যেতাম, মেয়ের টাকায় চলি বলে মানুষ আমাকে কটাক্ষ করত। এটা আমাকে ভীষণ পীড়া দিত। এমনকি কেউ কেউ আমার মেয়ের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলত। আমি মেয়েকে বলেছিলাম একাডেমি বন্ধ করতে। কিন্তু সে রাজি হয়নি।’
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দীপক আরও বলেছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি আমার মান-সম্মানে আঘাত হানে। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম। আর এ মানসিক চাপের কারণে আমি লাইসেন্সকৃত রিভলভারে দিয়ে রান্না করার সময় রাধিকাকে পেছন থেকে তিনটি গুলি করি। সে গুলি ওর কোমড়ে লাগে। আমি আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছি।’
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দীপকের স্ত্রী মাঞ্জু কোনো লিখিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি। জ্বরের কথা বলে তিনি বাড়ি চলে গিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
তবে রাধিকার চাচা কুলদীপ ইয়াদব এফআইআর দায়ের করেছেন। তিনি পুলিশকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিকট শব্দ শুনে তার ভাইয়ের বাসায় ছুটে যান।
এফআইআরে কুলদীপ বলেছেন, ‘… আমি রান্না ঘরে আমার ভাতিজিকে পড়ে থাকতে দেখি। আর ড্রয়িংরুমে একটা রিভলভার দেখতে পাই। এরপর আমি ও আমার ছেলে পীয়ুস ইয়াদব ওপর তলায় যাই। আমরা দুজনে মিলে রাধিকাতে আমাদের গাড়িতে করে গুরুগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬ তে এশিয়া মরিঙ্গো হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার ওকে মৃত ঘোষণা করে।’
ভাতিজির হত্যাকাণ্ডে অবাক হয়েছেন বলে জানান কুলদীপ। তিনি আরও বলেছেন, ‘ও (রাধিকা) খুবই নামকরা টেনিস খেলোয়াড় ছিল। বহু ট্রফি জিতেছে। বুঝতে পারছি না, ওকে কেন খুন করা হলো। (গুলির শব্দ শোনার পর) আমি যখন নিচতলায় গেলাম, সেখান আমার ভাই দীপক, মাঞ্জু ইয়াদব ও রাধিকাকে দেখতে পাই…।’