উইম্বলডনের নতুন রাণী সিওনতেক

এমন কিছু করেছেন, নিজেরও বিশ্বাস হচ্ছে না তাঁর

ইগা সিওনতেক নিজেও কি এমন একপেশে ফাইনালের কথা ভেবেছিলেন? উইম্বলডনের নারী এককের ফাইনালে গতকাল শনিবার যা হয়েছে, সেটা অবিশ্বাস্য বললেও বোধহয় কম হবে! সেন্টার কোর্টে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আমান্ডা আনিসিমোভাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন ৬-০, ৬-০ গেমে। মাত্র ৫৭ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো উইম্বলডনে নারী এককের চ্যাম্পিয়ন হলেন সিওনতেক।

এমন একপেশে ফল যে সিওনতেকের নিজেরও বিশ্বাস হচ্ছে না, সেটা উঠে এসেছে পোলিশ তারকার কথাতেই, ‘এটা ভীষণ পরাবাস্তব মনে হচ্ছে।’

অবিশ্বাস্য এ কীর্তির মধ্য দিয়ে উইম্বলডনে ফিরেছে ১১৪ বছর আগের স্মৃতি। এর আগে ১৯১১ সালে উইম্বলডনে নারী এককের ফাইনালে ডোরা বুথবিকে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ল্যাম্বার্ট চ্যাম্বার্স।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর নিজের প্রথম উইম্বলডন ফাইনালে সে কীর্তি ফেরালেন ২৪ বছর বয়সী সিওনতেক। তাতে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে নিজের অপরাজেয় যাত্রাটা ছয়ে নিয়ে গেলেন পোলিশ তারকা। নারী এককে ফ্রেঞ্চ ওপেনে চারবার ও ইউএস ওপেনে একবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই শিরোপা জিতেছেন সিওনতেক। উইম্বলডনেও সে যাত্রা অব্যাহত রেখে ট্রফি কেসে গ্র্যান্ড স্ল্যামের সংখ্যা ছয় বানালেন সিওনতেক।

উইম্বলডন জেতার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সিওনতেক বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, উইম্বলডনে এমন কিছু করার স্বপ্নও দেখিনি কখনো। এটা চিন্তার বাইরে ছিল। মনে হচ্ছে, আমি একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, যে অন্যান্য স্ল্যাম জিতেছে। কিন্তু এটা আমি আশা করিনি।’

অন্যদিকে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে এমন ধসের জন্য নিজের স্নায়ুচাপকে দায়ী করেছেন আনিসিমোভা। ম্যাচে সব মিলিয়ে ২৮টি আনফোর্সড এরর করেছেন ২৩ বছর বয়সী এ যুক্তরাষ্ট্রের টেনিস তারকা। এছাড়া ডাবল ফল্ট করেছেন পাঁচটি।

পুরো ম্যাচেই এমন ভুলের মাশুল দিয়েছেন ৬-০, ৬-০ ব্যবধানে হেরে। ম্যাচ শেষে আনিসিমোভা বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, স্নায়ুচাপের কারণে আমি জমে গিয়েছিলাম।’ প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে এমন দুঃস্বপ্ন উপহার পেলেও সেখান থেকে শিক্ষাটা কাজে লাগাতে চান আনিসিমোভা, ‘উন্নতির অনেক জায়গা আছে। কীভাবে স্নায়ুচাপ সামলাতে হয়, সে বিষয়ে আমার আরও অভিজ্ঞতা দরকার। এটা আমার প্রথম স্ল্যাম ফাইনাল। এখন অন্তু সেই অভিজ্ঞতা কিছুটা হয়েছে।’