রম্য

ভারতের বিপক্ষে হারে যে পাঁচ প্রাপ্তি বাংলাদেশের

ভারতের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ। এতে বিশ্বকাপে হারের হ্যাটট্রিক হয়ে গেল লিটন-শান্তদের। বড় ব্যবধানের এই হারে হতাশা যেমন আছে, চাইলে একটু প্রাপ্তিও খুঁজে নেওয়া যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক সে প্রাপ্তিগুলো-

ভারতকে দুশ্চিন্তায় ফেলা

না, ২৫৭ রানের লক্ষ্য ৭ উইকেট ও  ৫১ বল হাতে রেখে জেতা ভারত প্রথম ১৩/১৪ ওভার ছাড়া কখনোই এ ম্যাচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল না। কিন্তু ভারতের বিশ্বকাপস্বপ্নের আরেকটুর জন্য সর্বনাশ হতে বসেছিল। নবম ওভারে বল করতে এসে লিটন দাসের একটা চার আটকাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে যান হার্দিক পান্ডিয়া।

একটু পর উঠে দাঁড়ালেও আর মাঠা নামা হয়নি হার্দিক পান্ডিয়ার। তবে সমর্থকেরা এ ম্যাচ নিয়ে না ভাবলেও ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে একটু চিন্তায় পড়ে গেছেন। ভারত দলের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে অবস্থা বুঝতে স্ক্যান করতে পাঠানো হচ্ছে, ভালো না খারাপ অবস্থা-কিছুই বলা হয়নি।

কোহলিকে বোলিং করতে বাধ্য করা

বিরাট কোহলি একসময় নিয়মিত বোলিং করতেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও বোলিং করতে দেখা গেছে তাঁকে। কিন্তু সেই না স্পিন না মিডিয়াম পেস, ‘ডিলি ডলি’ বোলিং অনেকদিন দেখা যায় না। ওয়ানডেতে সর্বশেষ কোহলিকে বল করতে দেখা গেছে ২০১৭ সালে। সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২ ওভারে ১২ রান দেওয়ার পর ওয়ানডেতে আর কখনো বল করেননি তিনি। সেই কোহলিকে আজ বল হাতে তুলে নিতে হলো। পান্ডিয়া চোটে পড়ায় বোলার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল, তাই মূল কোনো বোলারকে বল করিয়ে ওভারের কোটা যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য কোহলির হাতে বল দেওয়া হয়েছে। কোহলিও ৩ বলে মাত্র ২ রান দিয়ে সে দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করেছেন।

ওপেনিং জুটি

প্রথম ম্যাচে ১৯ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তো প্রথম বলেই ভাঙল ওপেনিং জুটি। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই ওপেনিং জুটি হতাশ করছিল। ভারতের বিপক্ষে আজ ভিন্ন কিছু হলো। প্রথম ৫ ওভারে রান না তুলে আজ শুধু টিকে থাকায় মন দিয়েছেন তানজিদ হাসান ও লিটন দাস। প্রথম ৫ ওভারে এসেছে ১০ রান। পরের ৫ ওভারে ৫৩ রান তুলে শুরুর ধীরগতি দুজনেই পুষিয়ে দিয়েছেন। সে জুটি ৯৩ রান এনে দিয়েছে ওভার প্রতি ছয়ের বেশি রানরেটে। কিন্তু দল এমন ভিত্তি কাজে লাগাতে পারেনি।  

প্রথমবারের মতো আড়াই শ

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানই সুযোগ দেয়নি। প্রতিপক্ষ প্রথমে ব্যাট করে দেড় শর পর গুটিয়ে গেলে বাংলাদেশের পক্ষে তো আর দুই শ পার করা সম্ভব না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হলো উল্টো। সেদিন সাড়ে তিন শ ছাড়ানো লক্ষ্য পেয়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ২২৭ রানে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ খুড়িয়ে খুড়িয়ে ২৪৫ রান করতে পেরেছে।

আজও সে সম্ভাবনা জেগেছিল, কিন্তু মাহমুদউল্লাহর ৩৬ বলে ৪৬ রান বাংলাদেশকে এই বিশ্বকাপের প্রথম আড়াই শ ছাড়ানো ইনিংস এনে দিয়েছে।  

হাসান ও নাসুমের বিশ্বকাপের স্বাদ

আজ বিশ্বকাপ অভিষেক হলো হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদের। তাতে বিশ্বকাপের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটারের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৪। এবার যে নতুন আটজন খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপে গেছে বাংলাদেশ, তার মধে সাতজনই অন্তত এক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। এভাবে হারতে থাকলে অন্যজন-তানজিম হাসান সাকিবও খুব শিগগিরই বিশ্বকাপের স্বাদ পেয়ে যাবেন।