নির্বাসনের শেষে প্রত্যাবর্তন: ইতিহাস গড়েছেন বিশ্বের যে নেতারা

নির্বাসন কিংবা দীর্ঘ কারাবাস যে রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটায়, এমন কিন্তু নয়। ইতিহাসে বহু উদাহরণ আছে, যেখানে কঠোর দমন–পীড়ন, নির্বাসন বা দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর নিজ দেশে ফিরে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছেন নেতারা। জনগণের সমর্থন, আদর্শিক দৃঢ়তা ও দীর্ঘ সংগ্রামের শক্তিতে তাঁরা রচনা করেছেন নতুন ইতিহাস। এমনই কয়েকজন বিশ্বনেতার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে জানা যাক–

ভ্লাদিমির লেনিন
রাশিয়ার জার শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও নির্বাসনের শিকার হন ভ্লাদিমির লেনিন। সাইবেরিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারবার নির্বাসিত হয়েছেন। নির্বাসিত অবস্থায় তিনি বলশেভিক মতাদর্শ বিকশিত করেন। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় ফিরে এসে অক্টোবরে বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তীতে তিনি সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।  

নেলসন ম্যান্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ২৭ বছর কারাবন্দী ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। ম্যান্ডেলাকে ১৯৬৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। টানা ২৭ বছর কারাভোগের পর ১৯৯০ সালে মুক্তি পান তিনি। মুক্তির পর শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন যুগের সূচনা করেন ম্যান্ডেলা। অবিরাম সংগ্রাম বিশ্বজুড়ে ম্যান্ডেলাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

রুহুল্লাহ খোমেনি
ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করায় ১৯৬৪ সালে দেশত্যাগে বাধ্য হন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তুরস্ক, ইরাক ও ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন কাটালেও সেখান থেকেই তিনি ইরানে বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৯ সালে শাহের পতনের পর দেশে ফিরে ইসলামী বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন রুহুল্লাহ খোমেনি।  

বেনজির ভুট্টো
বেনজির ভুট্টো সামরিক শাসনের চাপে পাকিস্তান ছাড়তে বাধ্য হন। নির্বাসন থেকেই তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলেন। নির্বাসিত অবস্থাতেও তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্ব দেন এবং রাজনৈতিক আন্দোলন চালিয়ে যান। দেশে ফিরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালেও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেনজির ভুট্টো। যদিও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হতে হয় বেনজির ভুট্টোকে।