মার্কিন তৎপরতা ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ভেনেজুয়েলায় ওষুধের দাম আকাশচুম্বী 

ভেনেজুয়েলা উপকূলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির চিকিৎসা খাতে। জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, আমদানি নির্ভর দেশটিতে পণ্যবাহী জাহাজ ও বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র ওষুধ সংকট।

ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ। এর সরাসরি মাশুল গুনতে হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার তেল সমৃদ্ধ এই দেশটির সাধারণ মানুষকে।

আগস্টের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার ফলে দেশটিতে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে।

রাজধানী কারাকাসের উত্তর-পূর্ব শহরতলির সুপারমার্কেটগুলোতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ। কিন্তু প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল একাডেমি অব মেডিসিনের সভাপতি হুনিয়াদেস আরবিনা মাদিনা বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত জটিল মানবিক জরুরি অবস্থার মধ্যে ভেনেজুয়েলা আটকা পড়েছে। যদি ফ্লাইট স্থগিত রাখা অব্যাহত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে আরও কঠিন বা দীর্ঘ পরিবহন পথ বেছে নিতে হবে, যা ভেনেজুয়েলায় ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যকে আরও বাড়িয়ে দেবে। এতে রোগীদের আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।’

ভেনেজুয়েলায় ওষুধের কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নভেম্বর থেকে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট স্থগিত করায় এবং মার্কিন অবরোধের কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে দেরি করায় স্থবির হয়ে পড়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ।’

যুদ্ধের দামামা আর নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পিষ্ট ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ এখন শুধু বাঁচার ন্যুনতম অধিকারটুকুই যেন প্রার্থনা করছেন।