গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ঝুঁকিতে ন্যাটোর ঐক্য, সংঘাতের শঙ্কা 

গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়, এটি হতে পারে ন্যাটোর ঐক্য ও অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যেখানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কাও রয়েছে। 

সামরিক হামলা বা সরাসরি দখল, যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল আর ডেনমার্ক ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এর জেরে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোটটির মূল ভিত্তি আর্টিকেল ফাইভ, যেখানে, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সবার ওপর আক্রমণ। কিন্তু এক ন্যাটো সদস্য আরেক সদস্যের ওপর হামলা চালালে জোট কার্যত অচল হয়ে যাবে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের উত্তর ইউরোপবিষয়ক পরিচালক আন্না উইসলান্ডার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল করে, তাহলে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ন্যাটো অর্থহীন হয়ে পড়বে।’

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘটনা একসঙ্গে ঘটলে তা ন্যাটোর জন্য মারাত্মক ধাক্কা হবে। জোটটি তখন শুধু নামেই থাকবে।’

ইতিহাসে ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে সংঘাতের উদাহরণও আছে। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও আইসল্যান্ডের কড যুদ্ধে, ১৯৭৪ সালে গ্রিস ও তুরস্কের সাইপ্রাস সংঘাত এবং ১৯৯৫ সালে কানাডা-স্পেন টারবট যুদ্ধ। এছাড়া সুয়েজ সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কসোভো বোমাবর্ষণ, ইরাক যুদ্ধ ও লিবিয়া হস্তক্ষেপ নিয়ে ন্যাটোর ভেতরে গভীর মতভেদ দেখা গেছে। এরপরও ভেঙে যায়নি ন্যাটো জোট। 

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ন্যাটোর ঐক্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে শুধু ডেনমার্ক নয়, পুরো ন্যাটোর অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।