আমেরিকার বিশাল নৌবহর ইরানের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরান আগ্রহী বলেও মনে করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন কি শুধু শক্তি প্রদর্শন, নাকি নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে উদ্বেগ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েক দিন ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে জল্পনা চলছে। এরই মধ্যে ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অবশ্য, তা ব্যবহার না-ও হতে পারে বলে জানান তিনি।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সোমবার জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সাথে রয়েছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ ও অত্যাধুনিক এজিস ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
২০২৫ সালের জুনে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ১২ দিনের আগ্রাসনের আগেও একই ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এদিকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিসহ ইসরায়েলও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হবে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ইরানে আগ্রাসনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানি তেল পাচারের অভিযোগে এরই মধ্যে ৯টি জাহাজ ও মালিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সামরিক প্রস্তুতি, কূটনৈতিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।