বিশ্ব রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রভাবের বাইরেও নিজেদের প্রতিনিধিত্ব আরও বেশি জোরদার করতে চায় এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন বৈশ্বিক কাঠামোর প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, তাদের গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ বা জিজিআই তৈরি করতে পারে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে ছিল পশ্চিমা শক্তিগুলো। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
কিন্তু গত কয়েক দশকে বদলে গেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চিত্র। চীনসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। এই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে বেইজিং।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ঘোষণা করেন গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ বা জিজিআই। চীনের দাবি, এর লক্ষ্য বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা নয়; বরং সব দেশের জন্য আরও সমান অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
জিজিআইয়ের মূল ধারণাগুলোর একটি হলো, বিশ্ব পরিচালনায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা। বেইজিং বলছে, বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার না করার দাবি।
এই উদ্যোগকে চীনের বৃহত্তর কূটনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভের মতো কর্মসূচি।
গত এক বছরে জিজিআইকে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে চীন। আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় মধ্যস্থতা, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন খাতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কথা বললেও এর মাধ্যমে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে চাইছে চীন।