ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রুশ হামলায় ইউক্রেনের জেপোরজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দখল নিতে বৃহস্পতিবার হামলা চালায় রুশ সেনাবাহিনী।

দুই পক্ষের গোলাগুলিতে আগুন ধরে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে। শুক্রবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। রাশিয়ার সেনাদের বোমা হামলায় এরই মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে আগুন লেগেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রুশ সেনারা চারদিক দিয়ে গুলি করছে।
তিনি এক টুইট বার্তায় আরো বলেন, জাপরিঝাঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলাগুলির ফলে সেখানে আগুন জ্বলছে। তার দাবি, ইউরোপের সবচেয়ে বড় এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্ফোরিত হলে তা হবে চেরোনোবিলের থেকে ১০ গুণ বড়।

শুক্রবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেখানে হামলা থেমেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এখনো আগুন জ্বলছে সেখানে। সেখানকার আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে তারা ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হামলার ব্যপারটি পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা এ বিষয়ে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ভবনে রাশিয়ার বোমা হামলায় সেখানে আগুন ধরে যায়। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বলছে, তারা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং জানতে পেরেছেন যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অপরিহার্য অংশগুলো এখনো চলমান আছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে যদি বিস্ফোরণ হয় তবে সেটি ইউরোপের জন্য অনেক বড় বিপর্যয়। ইউরোপকে এখনই জেগে উঠতে হবে। রুশ সেনারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই সেখানে গুলি করছে। ইউরোপের জরুরি পদক্ষেপই রুশ সেনাদের থামাতে পারে। একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপর্যয় থেকে গোটা ইউরোপের মৃত্যুর অনুমতি দেবেন না আপনারা।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশেপাশে সংঘাত থামানোর জন্য আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা।

এদিকে জেপোরোজিয়া অঞ্চলের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে হামলার আশংকার কথা জানিয়েছিলেন এনারগোদারের মেয়র দিমিত্রো। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাশিয়ান সেনাদের একটি বিশাল দল নিকটবর্তী জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক জোরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

/এইচ কে/