ইউরোপের সবচেয়ে বড় ইউক্রেনের জেপোরজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দখল নিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দখল নিতে বৃহস্পতিবার হামলা চালায় রাশিয়া। ওই অঞ্চল থেকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে আগুন ধরে যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে। পরে শুক্রবার সকালে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
'এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র তদারকির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন,' স্থানীয় কর্তৃপক্ষর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোর অবস্থা সবসময় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে রাশিয়ার সৈন্যদের বোমা হামলায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে আগুন ধরে যায়। পরে সে আগুন নেভানো হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বিকিরণ স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্রটি ১৯৮৪ সালে ১৯৯৫ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। এটি তৈরি করতে ১১ বছর সময় লেগেছিল।
এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছয়টি রিয়েক্টর থেকে ৫,৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।
স্বাভাবিক সময়ে জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ইউক্রেনের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাঁচভাগের এক ভাগ আসে। রাজধানী কিয়েভ থেকে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন লাগার খবরে এশিয়ার শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে টোকিও এবং হংকং শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে।
জাপানের নিককেই শেয়ার বাজারে সূচক পড়ে গেছে ২.৫ শতাংশ এবং হংকং শেয়ার বাজারে সূচক পড়ে গেছে ২.৬ শতাংশ। এশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানী তেলের মূল্যও ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারের বেশি হয়েছে।
রাশিয়ার সেনাদের বোমাবর্ষণের কারণে ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদুৎ কেন্দ্রে আগুন লেগে যায়। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ইউক্রেনের জরুরী বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, শুরুতে তাদের সেখানে ঢুকতে দেয়া হচ্ছিল না।
পরবর্তীতে তারা সেখানে ঢুকতে পারে এবং আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। আগুন নেভানোর খবরে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে অনেক বিনিয়োগকারীর মনে আবারো আস্থা ফিরে আসে।
/এইচ কে/