নাইজারে অভ্যুত্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিফলন দেখছেন বিশ্লেষকরা 

হঠাৎ করেই উত্তপ্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ, নাইজারের রাজনৈতিক অঙ্গণ। এমনিতে বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির খুব বেশি গুরুত্ব না থাকলেও বিশেষ একটি কারণে সব পরাশক্তির নজর থাকে নাইজারের দিকে। 

এর একটি বিশেষ কারণে হিসেবে মনে করা হচ্ছে পারমাণবিক বোমা তৈরির অপরিহার্য প্রাকৃতিক উপাদান ইউরেনিয়াম। আর নাইজার হলো বিশ্বের সপ্তম-বৃহৎ ইউরেনিয়াম উৎপাদনশালী দেশ। তাই পশ্চিম আফ্রিকার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ দেশ নাইজারের সেনা অভ্যুত্থানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিফলন দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। 

যদিও এ অভ্যুত্থানের পেছনে নিরাপত্তার অজুহাত দেখানো হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ দেশ নাইজারে ঠিক কী কারণে অভ্যুত্থান ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভ্যুত্থানে জড়িতদের ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি বৈরি মনোভাব এবং রাশিয়ার প্রতি স্পষ্ট সমর্থন দেখা গেছে। তাদের অনেকের হাতে দেখা গেছে রুশ পতাকা। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ফ্রান্সের কবল থেকে মুক্তি চাই।

পারমাণবিক বোমা তৈরির অপরিহার্য প্রাকৃতিক উপাদান ইউরেনিয়ামের সপ্তম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ নাইজার। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের। 

আরও পড়ুন: ভারতে মসজিদে আগুন, ইমামকে গুলি করে হত্যা

তবে কয়েক বছর ধরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে ফ্রান্সসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি বৈরি মনোভাব বেড়েছে। নাইজারের দুই প্রতিবেশি মালি ও বুরকিনা ফাসোতে সেনা অভ্যুত্থানের পর নতুন সামরিক শাসক ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। 

আবার এসব দেশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি সমর্থনও দেখা গেছে। বুরকিনা ফাসো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক /সি/এ/আর এবং মালি সরকার পশ্চিমা সেনাদের পরিবর্তে রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারকে সহযোগিতা করেছে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের ভেতরে থাকাকালীন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাজুমের কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। 

এ অবস্থায় গত সপ্তাহে নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম। নাইজারের বিদেশি মিত্ররা এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট গার্ডের প্রধান জেনারেল আব্দুরহামানে তচিয়ানির নেতৃত্বাধীন নতুন সামরিক সরকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। তাকে গত শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভের পর এপর্যন্ত চারবার অভ্যুত্থানের মুখে পড়েছে নাইজার।