অবশেষে কানাডার টরন্টোতে দেখা মিলল বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি--নূর চৌধুরীর। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। তবে ক্যামেরা দেখে পালিয়ে যান এই ব্যক্তি। কানাডার মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের সুযোগেই সেখানে থাকছেন জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত এই হত্যাকারী।
বঙ্গবন্ধুকে নিজ হাতে গুলি করা নূর চৌধুরী কোথায়- তা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। অবশেষে তার অবস্থান নিশ্চিত করেছে কানাডার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম-- সিবিসি। তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে, দেখা মিলেছে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত এই খুনির।
শনিবার সকালে প্রচারিত হয় ‘দ্য ফিফথ স্টেট’ এ ‘দ্য অ্যাসাসিন নেক্সট ডোর’ শিরোনামের ৪২ মিনিটের প্রতিবেদনটি। এতে উঠে এসেছে নূর চৌধুরীর কানাডায় পালিয়ে যাওয়া, ২৭ বছর সেখানে থাকা ও বঙ্গবন্ধু হত্যায় সাজা কার্যকরে তাকে বাংলাদেশ সরকারের ফেরত চাওয়ার প্রসঙ্গ।
টরন্টোর নিজ ফ্লাটের ব্যালকনিতে নূর চৌধুরীকে দেখা গেছে এই প্রতিবেদনে। পরে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা অবস্থায় তাকে ধরতে পারেন প্রতিবেদক। তবে কোনো মন্তব্য না করেই চলে যান তিনি। আপস...
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর নানা দেশে দূতাবাসে কাজ করেন নূর চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথমে পালিয়ে যার যুক্তরাষ্ট্রে। পরে আত্মগোপন করেন কানাডায়। ১৯৯৯ সালে শরণার্থী হিসেবে থেকে যাওয়ার আবেদন করলেও তা নাকচ করে কানাডা সরকার। পরে হেরে যান আপিলেও।
২০০৯ সালে কানাডা থেকে নূরকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেয় কানাডিয়ান সর্বোচ্চ আদালত। তবে দেশে ফিরলে মৃত্যুদণ্ড হবে জানিয়ে, নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের একটি আবেদন করেন তিনি। আর সে আবেদনেই কানাডার মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের সুযোগ নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর এই খুনি।