পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে নিউইয়র্কের মেয়রের শপথ নিলেন মামদানি

আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। শহরের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন হাতে এই শপথ নেন তিনি। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করা কোরআনের কপিটি ২০০ বছরের পুরোনো।

নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং বহু প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শহরটির মেয়রের দায়িত্ব নিলেন মামদানি। এর মাধ্যমে রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হলো তাঁর মেয়াদকাল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাট মামদানি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত পেরিয়ে ভোরের কিছু পর নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক, পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন। শপথের সময় তিনি হাতে পবিত্র কুরআন ধরে ছিলেন।

মামদানি বলেন, ‘এটা সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্য।’

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল ও রাজনৈতিক মিত্র লেটিশিয়া জেমস শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজন হয় পুরোনো সিটি হল স্টেশনে। এটি শহরের প্রথম দিককার অন্যতম সাবওয়ে স্টেশন, যা এর দৃষ্টিনন্দন খিলান করা ছাদের কারণে বিখ্যাত।

পরে আরও আনুষ্ঠানিকভাবে অনেক বড় আয়োজনে শহরের সিটি হলে স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় আবারও শপথ নেবেন মামদানি। শপথ পড়াবেন আমেরিকার সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে মামদানির রাজনৈতিক নায়কদের একজন বলা হয়। এরপর ব্রডওয়ের বিখ্যাত ‘ক্যানিয়ন অব হিরোজ’ এলাকায় জনসাধারণের জন্য এক উৎসবের আয়োজন করা হবে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এখন থেকে আমেরিকার সবচেয়ে কঠিন ও নজরকাড়া রাজনৈতিক দায়িত্বগুলোর একটি সামলাতে হবে মামদানিকে। শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার পাশাপাশি মামদানি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেয়া প্রথম মেয়রও বটে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই তিনি এই দায়িত্ব পেলেন।

উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেয়া মামদানি খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও শিক্ষাবিদ-লেখক মাহমুদ মামদানির সন্তান। সাত বছর বয়সে পরিবার নিয়ে তিনি নিউইয়র্কে আসেন। ৯/১১–এর পর মুসলমানদের জন্য অস্বস্তিকর এক শহরেই বড় হয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করেন।