জব্দ ৭ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তৈরি হলো বাদ্যযন্ত্র

২০১২ সাল থেকে মেক্সিকো সিটিতে জব্দ করা ৭ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রকে বাদ্যযন্ত্রে রূপান্তর করে আলোচনায় এসেছেন শিল্পী পেদ্রো রেয়েস। ‘ডিসআর্ম’ নামের প্রদর্শনীতে বিভিন্ন মারণাস্ত্রের অংশ দিয়ে তৈরি সংগীত ভাস্কর্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। ধাতুশিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের সহায়তায় তৈরি যন্ত্রগুলো ইতিমধ্যে বিশ্বের ১৫টি শহরে প্রদর্শিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মেক্সিকো সিটিতে চলছে এই অভিনব প্রদর্শনী। অন্ধকার আবহে মানুষের সহিংসতার অনুরণন বেজে উঠছে ধাতব ঝংকার আর সুরে। মেক্সিকান শিল্পী পেদ্রো রেয়েস তাঁর এই প্রদর্শনী প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘ডিসআর্ম’। প্রদর্শনীর প্রতিটি বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয়েছে মেক্সিকোর বহু সহিংসতা থেকে জব্দ করা মারণাস্ত্র থেকে।

শিল্পী পেদ্রো রেয়েস বলেন, ‘আমরা সাত হাজার মারণাস্ত্র সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। তারপর এসব দিয়েই বাদ্যযন্ত্র তৈরির পরীক্ষাধর্মী কাজ শুরু করি। এর মধ্যে পারকাশন থেকে শুরু করে তারযন্ত্র, এমনকি বাতাস দিয়ে চালিত বাদ্যযন্ত্রও আছে।’

পেদ্রো রেয়েস তাঁর কাজকে বলেন ‘সামাজিক ভাস্কর্য’, যেখানে শিল্প সমাজে চলমান সমস্যাগুলোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে আমার এই প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে মূলত আমেরিকা থেকে আসা আগ্নেয়াস্ত্র, যা দুঃখজনকভাবে মেক্সিকোতে নানা সমস্যা তৈরি করছে।’

পিস্তল, রাইফেল ও মেশিনগান থেকে রূপান্তরিত বাদ্যযন্ত্রগুলো ইতিমধ্যে সংগীতশিল্পী এবং ধাতুশিল্পীদের যৌথ উদ্যোগে ৫টি মহাদেশের ১৫টি শহরের বিভিন্ন কনসার্টে প্রদর্শিত হয়েছে।

সংগীতশিল্পী লরা অর্টম্যান বলেন, ‘যখন তুমি বন্দুকের মতো কোনো জিনিস হাতে পাবে, তখন তুমি সত্যিই খুব নাটকীয়, খুব অন্ধকার কিছু করতে চাইবে। কিন্তু এমন কিছু করতে হবে যার শেষে নিশ্চিতভাবে আলো থাকবে; যা তোমাকে শান্তি ও আশার অনুভূতি দেবে।’

পেদ্রো রেয়েস প্রথম এই প্রকল্পটি শুরু করেন ২০১২ সালে। মাদক-সম্পর্কিত সহিংসতার শীর্ষে থাকা মেক্সিকোর উত্তরের শহর সিউদাদ হুয়ারেজে জব্দ করা অস্ত্র ব্যবহার করে এই যাত্রার সূচনা হয়।