ইরানের সামরিক সক্ষমতা ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে। বৃহস্পতিবার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় এ সতর্কবার্তা দেন তিনি।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি করোনা মহামারির মত ভয়াবহ হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইউক্রেন ইস্যুতে ন্যাটোকে শক্তিশালী রূপেই পাশে পেয়েছে আমেরিকা। অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের পরও শেষ সময় পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো। তবে ইরান ইস্যুতে জোটটির অবস্থান ভিন্ন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করলেও মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি সংঘাতে জড়াতে নারাজ মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোট।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপকে এমন একটি সংঘাতের অর্থনৈতিক পরিণতি ও সামরিক ঝুঁকি বহন করতে বলা হচ্ছে, যা থেকে সহজে বেরিয়ে আসার সুযোগ নেই। যে সংঘাতে সহযোগিতা না পাওয়ার জন্য ট্রাম্প অখুশি, সেটি শুরুর আগে মিত্রদের সাথে কোন আলোচনাও করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
এমন পরিস্থিতিতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মিত্রদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। বৃহস্পতিবার এ সতর্কবার্তা দিয়ে রুটে, আবারও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ইউরোপের জন্য ঝুঁকি বলে উল্লেখ করেন।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। ন্যাটো দীর্ঘদিন ধরেই মিত্র ও তাদের স্বার্থের প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির হুমকির কথা বলছে। আমেরিকা বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র উভয় সক্ষমতাকেই কমানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে এখনই সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে, ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব করোনা মহামারির মত ভয়াবহ হতে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে এখনই কিছু বলা মুশকিল। সংঘাতে জড়িত দেশগুলোও কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবে না। একে করোনা মহামারির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এই সংঘাত প্রতিটি অঞ্চল ও মহাদেশের উন্নয়নের গতি কমিয়েছে।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিষয়ে ন্যাটোর সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অভিন্ন অবস্থান চাইতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।